রুমেন চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি ঘটলেও জেলার নয়টি উপজেলায় অন্তত তিন লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও মিরসরাই উপজেলায়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভেঙে গেছে হালদা নদীর উপর নির্মিত বাঁধ। হালদা তীরের বেড়িবাঁধের ২২টি ভাঙা অংশ দিয়ে নদীর পানি বিভিন্ন এলাকায় ঢুকছে। নাজিরহাট নতুন ব্রিজ এলাকায় প্রায় ১৫ ফুট বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন খাল থেকেও পানি উপচে মানুষের বাড়িঘরে ঢুকেছে।
তবে নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে হালদা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে চট্টগ্রামের ৯ উপজেলায় পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ, করুণ পরিস্থিতি ফটিকছড়ি-হাটহাজারী-মিরসরাইয় উপজেলায়। ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারীর বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক।
এদিকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কাপ্তাই লেকের পানি বর্তমানে ১০৬ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। লেকটির ১০৯ ফুট পর্যন্ত পানি ধারণ করতে পারে। তবে আর মাত্র দুই ফুট পানি বাড়লেই কাপ্তাই বাঁধ খুলে দিয়ে লেকের পানি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বন্যার পানিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশের সাথে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বন্যার কারণে একই দিন সন্ধ্যা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন। এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। সৃষ্ট এ বন্যায় ফটিকছড়িরতে পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে সামি নামের এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।একই সময়ে ব্যক্তি তার ছেলেকে পানিতে ভেসে যাওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই ভেসে যান তীব্র স্রোতে।
এছাড়াও এক যুবক পানির স্রোতে ভেসে গেছেন এই উপজেলায়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি নদীতে বন্যার পানিতে তলিয়ে মোহাম্মদ রনি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন বন্যার্তদের সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নৌকা ও স্পিড বোট করে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি দিচ্ছেন এসব বন্যার্তদের মাঝে।