নিউজ ডেস্ক

মদিনার মুসাফির (১ম পর্ব)

(আতিকুর রহমান)

ইয়াহিয়া একজন আশেকে রাসুল. জীবনের চলার পথে সততা নীতি আর্দশে নিজেকে নিয়োজিত রাখতো। একজন রিক্সার ড্রাইভার সহধর্মিণী আর তিন বছরের ছোট মেয়ে নিয়ে সংসার জীবন। ছোট বেলায় মা. বাবা হারা একজন সন্তান আল্লাহ ভীরু একজন মুমিন আযান যেখানেই হয় তার আশেপাশে মসজিদে ছুটে চলে জীবনে কখন নামাজ কাজা করেননি। নামাজের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক . ঘরে বাহিরে সরবে নিরবে সবসময় জিকির করতে থাকে।

এমনকি বাসায় রাতে ঘুমানো অবস্থায় ও শব্দ করে জিকির করে তাঁর সহধর্মিণী তাকে এই বিষয় নিয়ে অনেকবার অবগত করেছেন। প্রায় সময় তার বাসায় লাগানো মক্কা. মদীনা শরীফের ছবিতে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে দু-চোখের পানি ছেড়ে কি যেনো ভাবতে থাকে। অভাবের সংসার কখনো কারো কাছে কোন সহযোগিতা নিতো না কখনো কেউ কিছু দান করলে সন্মানের সহিত কায়দা করে ফেরত পাঠাতো।

ইয়াহিয়া তাঁর সহধর্মিণীকে বলতো মরিয়ম মানুষ আমাদেরকে গরীব বলেই দান করতে চাই অতচ তাঁর এই দান যদি হারামের টাকাই হয় আমরা যদি তা আহার করি তাহলে তো আমাদের শরীরে হারামের বাসা হবে আমাদের কোন ইবাদত তো আল্লাহ কবুল করবে না। আমি যা আয় করে রিক্সা চালিয়ে তা দিয়ে আমরা ভালো ভাবে চলতে পারি আরো কিছু জমা হলে তা আত্মীয় স্বজনকে উপহার হিসেবে সাহায্য করতে পারি। দিনে রিকশা চালিয়ে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো মিস করে না।

দরুদ. কোরআন তেলোয়াত করে. বাসায় হারিকেনটা নিভিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহ দরবারে দু-চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বিনয়ের সাথে কাকুতি মিনতি করে যায় সর্বদাই।

ইয়াহিয়া এমন একজন মানুষ কখনো কেউ যদি তার কাছে সাহায্য চাই অত্যন্ত আনন্দের সাথে সাধ্যমতো সাহায্য করে আর আসমানের দিকে হাতটা তুলে মিনমিন করে কি যেনো বলতে তাকে। কখনো সেই দোকানে বসে আড্ডা দিতো না।তাঁকে কেউ আগে সালাম দিতে পারতো না এলাকায় পরিচিত অপরিচিত ছোট বড় সবাইকে দেখা মাত্র সালাম দিয়ে দিতো।

তাঁকে এলাকার কিছু বখাটেরা ক্ষেপানোর জন্য দেখামাত্র বলে উঠতো আসসালামু আলাইকুম ভাই। তিনি মুচকি হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিতো তবু্ও তারা পিছু নিয়ে জোরে বলতে থাকতো।

কখনো রাগতো না মাঝে মাঝে দল বেঁধে বেশি করে ফেললে আশাপাশে মসজিদ ফেলে ওযু করে ডুকে পড়তো নামাজের সময় না হলে জিকির করতে। তখন মসজিদের পাশে আর বখাটারা যেতো না। এভাবে ইয়াহিয়ার জীবনের দিন চলতে লাগলো।আল্লাহ প্রতি সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সর্বদাই তাঁর শারীরিক সুস্থতার জন্য।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন