প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৪, ২০২৬, ২:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২০, ২০২৪, ১২:১৭ পি.এম
টাকা ফেরত এড়াতে সাজানো ২১ টি গরু লুটের নাটক
মোঃ মাছুম আকবরী আকাশ,পটিয়া প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়ার মরিয়ম এগ্রো ফার্মে ২১টি গরু লুটের অভিযোগের পেছনে বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ তথ্য। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, পুরো ঘটনাটি ছিল সাজানো নাটক। খামারের মালিক তৌহিদুল ইসলাম নিজেই কর্মচারীদের সহযোগিতায় এই মিথ্যা ঘটনা তৈরি করেছেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নুর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গরু লুটের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। খামারের তিন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে পুরো কাহিনির আসল রহস্য। কর্মচারীরা স্বীকার করেন, তৌহিদুলের নির্দেশেই তাঁরা ডাকাতির গল্প সাজিয়েছেন।
তৌহিদুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, খামার পরিচালনার জন্য তাঁর বড় ভাই সফিউল আলম থেকে কোটি টাকার মতো পুঁজি নিয়েছিলেন। সেই টাকা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যক্তির কাছেও তাঁর বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে। এসব ঋণ পরিশোধ করতে না পারার শঙ্কায় তিনি এমন নাটক সাজিয়েছেন।
সফিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, ছোট ভাইয়ের খামারের জন্য তিনি বিপুল টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে মরিয়ম এগ্রো ফার্ম থেকে ২১টি গরু লুটের ঘটনার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়। তবে পুলিশের তদন্তে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
পটিয়া থানার ওসি জানান, এটি ছিল একটি কল্পিত ঘটনা। খামারের মালিক অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, খামারে আদৌ ২১টি গরু ছিল না।
এই ঘটনা পটিয়াসহ সারা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে সত্য উদঘাটিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.