প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৪, ২০২৬, ৫:০৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৩১, ২০২৪, ১০:৪১ পি.এম
‘আসামি’ নাছির পরোপকারী মানুষ, নাম বাদ দিতে বাদীর আবেদন আদালতে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন মামলার বাদী মো. মানিক। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এ আবেদন করেন তিনি। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি নথিজাত করার নির্দেশ দেন।
বাদী মো. মানিক বলেন, আ জ ম নাছির উদ্দীন একজন বয়স্ক এবং পরোপকারী ব্যক্তি। মামলার সময় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। এ ঘটনায় তিনি কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না। ভুল বুঝতে পেরে তাঁর নাম বাদ দিতে আদালতে আবেদন করেছি।
বাদীর আইনজীবী আখতারুল রহমান ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাদী থানায় যে অভিযোগ জমা দেন, সেখানে আ জ ম নাছির উদ্দীনের নাম উল্লেখ ছিল না। পরবর্তীতে কারো শত্রুতা থেকে নামটি এজাহারে ঢোকানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এজাহার অনুযায়ী, গেলো ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকায় একটি মাজারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে ১০৮ জন আসামি পরিকল্পিতভাবে বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় মো. মানিক আহত হন। মামলাটি ২০ নভেম্বর ডবলমুরিং থানায় নথিভুক্ত হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ মোট ছয়জনের নির্দেশে গুলি চালানো হয়। আসামিদের তালিকায় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরীর নামও ছিল।
আ জ ম নাছির উদ্দীনের নাম নিয়ে বাদী আদালতে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর নাম এজাহারে থাকার কথা নয়। নাছিরের সম্পৃক্ততা ছাড়া তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদী দাবি করেন, কোনো চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থে তাঁর অজান্তেই নামটি এজাহারে যোগ করেছে।
ডবলমুরিং থানার ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, বাদীর এজাহার অনুযায়ী মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তে যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদেরই আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তিথংকর দাস জানান, আদালতের আবেদন এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি।
চট্টগ্রামের আদালত ও থানাগুলোতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় অন্তত ৫০টি মামলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাদী ও একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে আসামিদের নাম বাদ দেন, যা ‘মামলা বাণিজ্য’ নামে পরিচিত। অনেক মামলার বাদী আসামিদের চেনেনও না।
উল্লেখ্য, আদালতের অনুমোদনের পর নাছিরের নাম তদন্ত থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ সিদ্ধান্ত নেবে।
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.