প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৪, ২০২৬, ৫:০৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১, ২০২৫, ৪:১২ পি.এম
শুভ জন্মদিন- শুভ ইংরেজি নব বর্ষ ২০২৫ঃ”রাশেদ রউফ: ছন্দের জাদুকর, সাহিত্যের আলোকবর্তিকা”
-মো. কামাল উদ্দিনঃ
আজ এক বিশেষ দিন—কবি, সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাহিত্য সংগঠক রাশেদ রউফের জন্মদিন। এই দিনে তাকে শুধু মোবাইলের পর্দায় শুভেচ্ছা জানিয়ে মন ভরলো না, কলম হাতে নিতে হলো। কারণ, রাশেদ রউফ এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু প্রশংসার দাবিদার নন, বরং তার জীবন ও কর্ম উদযাপন করাটাও আমাদের জন্য একধরনের নৈতিক দায়িত্ব।
যে মানুষটি চট্টগ্রামের সাহিত্য জগতে এক নেপথ্য কারিগর, অসংখ্য লেখকের জন্মদাতা এবং বাংলা সাহিত্যের অন্ত্যমিলের যাদুকর, তাকে নিয়ে কিছু লিখতে গেলে কলমও কাঁপে। এত বিশাল, অথচ বিনয়ী এক মানুষকে শব্দে ধারণ করা সহজ নয়।
চট্টগ্রাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বহু নবীন-প্রবীণ লেখকের অনুপ্রেরণার উৎস হয়েছেন। তার ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের লেখকগোষ্ঠী, যারা আজ বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখছে। রাশেদ রউফ একাধারে একজন শিশুসাহিত্যিক, যিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন। তার লেখার বৈশিষ্ট্য হলো সরলতা, ছন্দ এবং অন্ত্যমিলের যাদু। তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্য হলো শিশুর হাসি আর প্রবীণের অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাই তার লেখায় একদিকে থাকে শিশুর সরলতা, অন্যদিকে থাকে জীবনবোধের গভীরতা।
আমার লেখালেখির শুরুতেই রাশেদ রউফ ভাইয়ের অবদান অপরিসীম। ২০০১ সালে শৈলীর উদ্যোগে আয়োজিত লেখালেখির কর্মশালায় তার সান্নিধ্যে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, লেখালেখি কেবল শব্দের খেলা নয়, এটি আত্মার প্রকাশ। সে কর্মশালায় দেশের খ্যাতনামা সাহিত্যিকদের কাছ থেকে শিখতে পেরেছিলাম, কিন্তু সবচেয়ে বেশি শিখেছি রাশেদ রউফ ভাইয়ের কাছ থেকে।
তার সেই সহজিয়া অথচ গভীর বোধের কথা এখনো কানে বাজে। ২০০৮ সালে তারই প্রেরণায় আমার প্রথম বই ‘বাঁকা কথা’ প্রকাশিত হয় শৈলী প্রকাশন থেকে। এরপর একে একে বহু বই প্রকাশের সাহস পেয়েছি তার কাছ থেকে। শুধু লেখক হিসেবে নয়, চট্টগ্রাম একাডেমির সদস্য হিসেবেও তার হাত ধরেই পথ চলার সুযোগ হয়েছে।
আজকের আমার লেখক সত্ত্বার পেছনে রাশেদ রউফ ভাইয়ের ভূমিকা সেই মহীরুহের মতো, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে সাহিত্যের পথে হাঁটতে শিখেছি। তার প্রতি মঙ্গলবারের অন্ত্যমিল যেন রসের সমুদ্র। প্রতিটি শব্দ যেন মধুর গুঞ্জন আর প্রতিটি বাক্য যেন একেকটি শিল্পকর্ম। পড়তে গেলে মনে হয় হাসি আর আনন্দের ঢেউ বইছে, কিন্তু লিখতে গেলে বোঝা যায় কতটা গভীর সাধনার ফসল এই অন্ত্যমিল। এটি শুধু ছড়া নয়, এটি এক সাহিত্য আন্দোলন, যা বাংলার সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। রাশেদ রউফ ভাইয়ের ব্যক্তিত্ব তার লেখার মতোই অনন্য।
শিশুর মতো সরল, অথচ জ্ঞানে প্রগাঢ়। তার চোখে-মুখে চিরকাল এক সহজাত হাসি লেগেই থাকে। সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাজারো গল্প, হাজারো অভিজ্ঞতা। কখনো কাউকে দুঃখ দেন না, বরং মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে জয় করতে জানেন। তার মতো মানুষরা সমাজে দুর্লভ। সাহিত্যের বাইরে তিনি একজন মানবিক মানুষ, যার হৃদয়ের উষ্ণতায় সবাই আশ্রয় খোঁজে। তার সঙ্গে সময় কাটালে মনে হয়, জীবন যেন একটু সহজ হয়ে যায়, লেখালেখির পথটা যেন একটু আলোকিত হয়ে ওঠে।
আজ তার জন্মদিনে শুধু দীর্ঘায়ুর প্রার্থনা নয়, প্রার্থনা করি, তিনি যেন সাহিত্যের আকাশে নক্ষত্র হয়ে চিরকাল জ্বলে থাকেন। তার আলো আমাদের পথ দেখাবে যুগে যুগে। শুভ জন্মদিন, রাশেদ রউফ ভাই।আপনার কলমের জাদুতে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হোক।
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.