প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৩, ২০২৬, ৯:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৬, ২০২৫, ২:০৭ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে বাংলাদেশের প্রথম ‘বুক এক্সচেঞ্জ কর্ণার’ এর শুভ উদ্বোধন করলেন চসিক মেয়র ডা: শাহাদাত
লিয়াকত হোসেন লিমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বইপ্রেমীদের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনার অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।আজ (২৫ জানুয়ারি) শনিবার বেলা ১১ ঘটিকায় উদ্বোধন হলো ‘বুক এক্সচেঞ্জ কর্ণার’।সামাজিক সংগঠন 'ক্লিন বাংলাদেশ' এর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এবং অন্ত্যমিল প্রকাশনীর তত্ত্বাবধানে জামালখান মোড়ে ডা: খাস্তগীর স্কুলের সামনে এই কর্ণার চালু হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যেমন সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনি মানুষের চিন্তাধারা বিকাশে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্লিন বাংলাদেশ-এর এই উদ্যোগ বইপ্রেমীদের মধ্যে পাঠচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
“এই উদ্যোগ আমার খুবই ভালো লেগেছে। এখানে আমি একটা বই নিব, বইটি এখানে আমার পড়া হয়ে গেছে সেই বইটি আমি নিজে নিজেই এখানে জমা দিব এবং নতুন একটি বই নিয়ে যাব। আমরা সততার মাধ্যমে এই কাজটি করবো। স্ক্যান কোডের মধ্যে দিয়ে আপনি আপনার নাম ঠিকানা দিয়ে কোন বইটি আপনি নিচ্ছেন কোন বইটি রেখে গেছেন সবকিছু এই স্ক্যান কোডের মাধ্যমে অনলাইনে সেটা যুক্ত হয়ে যাবে। আপনি কোন বই ডোনেট করতে চাইলে সেটাও ডোনেট করতে পারছেন।
পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। আমাদের যে পবিত্র কোরআন যেটা আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাছে নাজিল হয়েছিল সেখানের প্রথম বাক্য ছিল ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছে ‘। কারণ পড়ার কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হবে। আমি মনে করি পড়াশোনা জীবনের শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে এবং পড়াশোনা করে আলোকিত সমাজ, আলোকিত মানুষ, আলোকিত রাষ্ট্র আমাদের করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ক্লিন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শওকত হোসেন জনি বলেন,“এই বুক এক্সচেঞ্জ কর্ণারে সততার ভিত্তিতে বই বিনিময় করা যাবে। একটি বই রেখে আরেকটি বই নেওয়ার মাধ্যমে একজনের জ্ঞান অন্যের কাছে পৌঁছাবে। সততাই হবে এই উদ্যোগের মূল চালিকা শক্তি।”
অন্ত্যমিল প্রকাশনীর তানভীর রিসাত বলেন,ছাত্রজীবন থেকেই বই নিয়ে কাজ করছি। বই পড়া এবং অন্যকে বই পড়তে দেওয়ার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম। এই কর্ণার পাঠকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উদ্যোক্তারা জানান, এই বুক এক্সচেঞ্জ কর্ণারটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং পাঠকেরা এখানে এসে স্বেচ্ছায় বই রেখে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিতে পারবেন। কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই বুক এক্সচেঞ্জের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। বই পড়ার প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলবে বলে আয়োজকরা আশাবাদী।এসময় উপস্থিত ছিলেন জসিম উদ্দিন চৌধুরী, প্রণব কুমার শর্মাসহ ক্লিন বাংলাদেশের কর্মীরা।
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.