যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মার্কিন বাহিনীর নতুন দফার সামরিক হামলা এবং পাল্টা ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তারা একাধিক হামলা চালিয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘তাদের ঠিকভাবে চলতে হবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না, তবে ইরান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। পরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে কঠিন চাপে রয়েছে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার ভাষায়, “আমরা দেখব, তাদের সঙ্গে সমঝোতা করব নাকি বিষয়টির অন্যভাবে সমাপ্তি ঘটবে।”
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, ইরান দ্রুত আলোচনায় না ফিরলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রায় ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ড্রোন পরিচালনা ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসও ছিল।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের পর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, বর্তমানে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা থেকে যদি বাস্তব কোনো লাভ না হয়, তবে তা মেনে চলার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াও ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে তিনি ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধের জবাবে সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যদিও তারা কোন রুটকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সেই অগ্রগতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বর্তমানে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
আরু/