ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে ‘কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। যদিও তিনি তার পোস্টে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ করেননি।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস–এর পডকাস্ট The Interview-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা শহরের আইন বিভাগ পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তার বিশ্বাস, নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে।
২০২৪ সালে গাজায় চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে ইসরায়েল আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহু সাধারণত নিউইয়র্ক সফর করেন। তার সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে মামদানির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ‘প্রহসনের আদালত’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি মেয়রের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেছে।
আগামী সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইসিসির পরোয়ানা, নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের মন্তব্য এবং ট্রাম্পের অবস্থান—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।
ইতি/