জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—যেমন বিয়ে, চাকরি, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা বা অন্য কোনো বড় পদক্ষেপের আগে অনেক মুসলমান ইস্তিখারার নামাজ আদায় করেন। তবে অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ মনে করেন, ইস্তিখারার পর স্বপ্নে অবশ্যই উত্তর পাওয়া যাবে। আবার কেউ মনে করেন, নির্দিষ্ট কোনো অনুভূতি না এলে ইস্তিখারা গ্রহণযোগ্য হয় না। ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ইস্তিখারা (ইস্তিখারাহ) শব্দের অর্থ হলো আল্লাহ তাআলার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা। কোনো বৈধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত কামনা করাই ইস্তিখারার মূল উদ্দেশ্য।
সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের যেভাবে কোরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইস্তিখারার দোয়া শিক্ষা দিতেন। এতে বোঝা যায়, মুসলিম জীবনে ইস্তিখারার গুরুত্ব কতটা।
ইসলামি গবেষকদের মতে, ইস্তিখারার পর স্বপ্ন দেখা বা কোনো অলৌকিক ইঙ্গিত পাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বরং ইস্তিখারা করার পর বিষয়টি নিয়ে যথাযথ চিন্তাভাবনা, পরামর্শ গ্রহণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সুন্নাহর সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। সিদ্ধান্তের পর যদি আল্লাহ সে পথ সহজ করে দেন এবং তাতে কল্যাণ রাখেন, সেটিকেই ইস্তিখারার ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখা হয়।
আলেমরা আরও বলেন, ইস্তিখারা কখনোই পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শের বিকল্প নয়। বরং প্রয়োজনীয় সব চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম ফল কামনা করার একটি ইবাদত।
ইসলামের দৃষ্টিতে, ইস্তিখারা মানুষের ভবিষ্যৎ জানার কোনো পদ্ধতি নয়; এটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছ থেকে কল্যাণ কামনা করার একটি সুন্নত আমল। তাই স্বপ্ন বা বিশেষ কোনো সংকেতের অপেক্ষায় না থেকে, শরিয়তের নির্দেশনা অনুসরণ করে যথাযথ চেষ্টা ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।
ইতি//