ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার গভীর রাতে যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে। এতে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হন। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের ঘোষণা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গত মে মাসে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে সদ্য গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংসদের চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করছে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক করলেও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজারো বিক্ষোভকারী ভারতীয় সংসদের দিকে পদযাত্রা করলে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর তরুণদের নেতৃত্বে এটি অন্যতম বড় আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
ইতি/