খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং লালচে অবস্থা থেকে নীলচে-সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পৌর এলাকার একটি বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির প্রায় ২৫ জন কর্মচারী কর্মস্থলে ভোজের আয়োজন করেন। সকালে বেকারির তিন কর্মচারী স্থানীয় বাজারের এক মাংস বিক্রেতার কাছ থেকে চার কেজি গরুর মাংস কেনেন। বিক্রেতা জানান, সেদিন জবাই করা সব মাংস বিক্রি হয়ে যাওয়ায় আগের দিনের ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস তাঁদের কাছে বিক্রি করা হয়।
বেকারির কর্মচারীদের দাবি, স্বাভাবিক নিয়মে তেল-মসলা দিয়ে রান্না শুরু করার কিছুক্ষণ পর মাংসের রং ধীরে ধীরে নীলচে-সবুজ হয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা রান্না বন্ধ করে প্রথমে মাংস বিক্রেতার কাছে এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে তারা রান্না করা মাংসসহ থানায় উপস্থিত হন।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংস নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা অভিযোগ দাখিল করেননি। পরে মাংস নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতা। তাঁর দাবি, একই সংরক্ষিত মাংস আরও কয়েকজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল এবং অন্য কোনো ক্রেতার কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো উপাদান বা অন্য কোনো কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে বেকারির কর্মচারীরা বিক্রেতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রান্নায় কোনো ধরনের রং, রাসায়নিক বা অস্বাভাবিক উপাদান ব্যবহার করা হয়নি। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মাংসের নমুনা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে এখন পর্যন্ত মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কোনো পরীক্ষাগারের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
ইতি/