কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতে আরও ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ সংকট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি টার্মিনালে একটি কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এলএনজি পুনর্গ্যাসীকরণ (Regasification) কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। এই ঘাটতির প্রভাব রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সিএনজি খাতে পড়েছে।
আরপিজিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, ত্রুটিটি দ্রুত শনাক্ত করে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজে দেশি প্রকৌশলীদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চললেও জটিল প্রযুক্তিগত কারণে মেরামত সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় রান্নার সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্পকারখানাগুলোও উৎপাদনে বিঘ্নের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিদ্যমান গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরামতকাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনাল থেকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। ততদিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বা সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।
ইতি/