নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক ) নিয়ন্ত্রণাধীন ডা জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজর দিকে কারো নজর নেই । কলেজের শিক্ষার্থী ,পরীক্ষার্থী, ইন্টার্ন ব্যাচ সবাই জিম্মি । এখানে ইন্টার্নশিপ কোর্সে অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য ১৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে । হয়রানির শিকার হচ্ছে কলেজের শত শত শিক্ষার্থী ।
জানা গেছে, ২০১৭-১৮ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ৩৬ তম ব্যাচের ইন্টার্নশিপে দিবা ও নৈশ শাখার শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। ইন্টার্ন শিপে সাধারণত অনেক শিক্ষার্থী কোর্স অনুপস্থিত ছিলেন। এই অনুপস্থিতির সংখ্যাও প্রায় ৬৫ জনের বেশি। বর্তমানে ইন্টার্ন শিপের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রোগীলিপি খাতা জমা নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল ২১ ডিসেম্বর রোগীলিপি খাতা জমা নেওয়ার শেষ দিন। অথচ এই রোগীলিপি খাতা জমা নেওয়ার সময় চেক করা হচ্ছে অনুপস্থিতির হার এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
হিসাব করলে দেখা যায়, একজনের কাছ থেকে ১৫০০টাকা করে প্রায় ৬৫জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে প্রায় ৯৭,৫০০টাকা। আদায়কৃত এই অর্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বা কলেজের ফান্ডে জমা দেয়া হচ্ছে না। এই অর্থ কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের ব্যক্তিগত তহবিলে জমা হচ্ছে। কলেজের কোন শিক্ষকের হাত দিয়েও এই টাকা আদায় করা হচ্ছে না। অধ্যক্ষ নুরুল আমিন কলেজের অফিস সহকারী শ্যামলের মাধ্যমেই এই জরিমানা আদায় করছেন। আরো জানা গেছে, কলেজের চলমান প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত অধ্যয়নরত প্রায় দেড় হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে নতুন বছরের ক্যালেন্ডার । কলেজের বিজ্ঞাপনমূলক মাত্র এক পৃষ্ঠার এই ক্যালেন্ডার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এই ক্যালেন্ডার বিক্রির টাকাও শ্যামলের হাত ধরে যাচ্ছে অধ্যক্ষের পকেটে।
তবে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এমন অর্থ আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকেও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকও অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুপস্থিতি জনিত কারণে ১৫০০ টাকা করে অর্থ আাদায়, ক্যালেন্ডার বিক্রি , সনদ প্রদানের সময়ও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাজার টাকা আদায় করা হয়। তবে এই টাকা চসিক বা কলেজের ফান্ডে জমা হয় না। সেগুলো আমাদের জানা মতে প্রিন্সিপাল মহোদয়ের কাছেই থাকে। এসব বিষয়ে কথা বললে আমরাও অধ্যক্ষ মহোদয়ের রোষানলে পড়ে যাব। হোমিওপ্যাথিক কলেজ হওয়ায় এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বা মিডিয়া কারো তেমন দৃষ্টি নেই । এখানে নিরবে নিভৃতে অনেক অপকর্ম চলছে।
বিষয়টি নিয়ে জাকির হোসেন সিটি কর্পোরেশন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ মো নুরুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্মতি নিয়েই এসব টাকা আদায় করা হচ্ছে