নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তিনি দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন। গতকাল আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নাম গিয়েল ওয়াংচুক। এদিকে গতকাল সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ৭ দেশের রাষ্ট্রদূতরা গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং শুভেচ্ছা জানান। গতকাল টেলিফোন করার পর নরেন্দ্র মোদি সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টেও শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে মোদি লিখেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানাই। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের স্থায়ী এবং জনকেন্দ্রিক অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল দুপুরে গঙ্গাসাগর মেলাসহ (ধর্মীয় মেলা) একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশের এই জয়ে আমার অভিনন্দন। অভিনন্দন রইল হাসিনা জি ও তার পরিবার এবং তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি। যারা এবারের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন, তাদের সবার প্রতি অভিনন্দন। প্রত্যেককে আমার ও পশ্চিমবঙ্গবাসীর তরফ থেকে অভিনন্দন। হাসিনা জি যেন ভালো থাকেন, আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করি।’
শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন যে ৭ দেশের রাষ্ট্রদূত : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারত, চীন, রাশিয়াসহ সাত দেশের রাষ্ট্রদূতরা। গতকাল সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারত, রাশিয়া, চীন, ভুটান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতরা। এ সময় তারা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এর আগে আগা খান ডিপ্লোম্যাটিক রিপ্রেজেনটেটিভের প্রতিনিধিরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয়ী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা কামনা করেন।
কূটনীতিকদের মধ্যে সবার আগে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
প্রধানমন্ত্রীকে ভুটানের অভিনন্দন : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভুটান। গতকাল সোমবার থিম্পুর বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে ওয়াংচুক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠিয়েছেন। পত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য উষ্ণ অভিবাদন জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে ভুটান এই অনন্যসাধারণ অর্জনে বাংলাদেশের জনগণের আনন্দে একাত্মতা প্রকাশ করছে।
ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার নৈকট্যপূর্ণ ও বিশেষ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে অভিনন্দনপত্রে উল্লেখ করেন ভুটানের রাজা। ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শিবনাথ রায়ের মাধ্যমে ভুটানের রাজা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনপত্র পাঠিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে চীনের অভিনন্দন : সফলভাবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়া ও আওয়ামী লীগের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। চীনা রাষ্ট্রদূত এই সময় চীনা নেতাদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছেন। এ বিষয়ে ঢাকার চীনা দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও অভিনন্দন জানানো হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন, চীনা নেতারা দীর্ঘ দিনের লালিত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং গভীর সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে চীন এবং বাংলাদেশ উভয়ই এক সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। উন্নয়ন আধুনিকায়নে চীন সব সময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত অংশীদার এবং নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পাশে ছিল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় চীন এবং বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধার মডেল স্থাপন করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে তৃতীয় পক্ষের
হস্তক্ষেপে চীনের বিরোধিতার বিষয় উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখ-তা রক্ষায় চীন বাংলাদেশকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। চীন বাংলাদেশে বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন বাংলাদেশকে সহায়তা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
অবাধ, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে : ভারতসহ ৯ দেশের পর্যবেক্ষক
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতসহ নয়টি দেশের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এবং দেশটির মুসলিম কংগ্রেসের ডেপুটি চিফ সৈয়দ আলী জহির বক্তব্য দেন।আলী জহির বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইরাক, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল এবং মালদ্বীপ থেকে এসেছি। আমরা ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে এসে প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। নির্বাচনের দিন খুব সকালে আমরা পরিদর্শন শুরু করি। ঢাকা শহরের আশপাশের প্রায় ৩০টি ভোটকেন্দ্র ঘুরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পরই আমরা জানতে পারি, নির্বাচনবিরোধীরা ঢাকায় একটি ট্রেনে আগুন দিয়েছে। ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, আগুন লাগানোর কিছু খবরও আমরা শুনেছি। আমরা এ ধরনের কার্যকলাপের জন্য তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এ ধরনের সহিংস ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকেও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে বলি। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।’
আলী জহির বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, ৫ জানুয়ারি থেকে গতকাল (রবিবার) পর্যন্ত আমরা দেখেছি বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। সাধারণ মানুষের ভোটদানে অনেক আগ্রহ ও উদ্দীপনা রয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা লক্ষ করেছি, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়েছে। আমরা মানুষকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখেছি। এর মধ্যে নারী ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি আমাদের চোখে পড়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সূর, এশিয়া টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদক জাভিয়ের পিয়েদরা, কনজারভেশন কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এমানুয়েল ফিনদোরো-ওবাসি, আফ্রিকা হাউস লন্ডনের পরিচালক রিচার্ড সেমেতিগো, আইডিসিওর সভাপতি জুন শিনদো, মালদ্বীপ নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমজাদ মুশতাফা, এডিইএলের ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আইদ মোহামেদ, নেপাল মুসলিম কমিশনের সভাপতি শামিম মিয়া আনসারি ও সদস্য মোহামেদিন আলী, থাইল্যান্ডের মানবাধিকারকর্মী জুরপাস পিথাকসেকাথারন ও ইরাকের মানবাধিকারকর্মী তালার মাহমুদ কারিম।