মোঃআলমগীর আজজি,টেকনাফ:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মাসিক আইন শৃঙ্খলা ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২২ জানুয়ারি-২০২৪ সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন কতৃক আয়োজিত টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্স এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের দুই বারের নির্বাচিত সাংসদ শাহীন আক্তার চৌধুরী,বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম।
এসময় বক্তব্য রাখেন,উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওসমান গনি,টেকনাফ উপজেলার স্বাস্থ্য পঃপঃ কর্মকর্তা প্রণয় রুদ্র।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান,সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন, ,হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মোঃ আলী,সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান,বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান মৌলনা নুর আহমদ আনোয়ারী,সদর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া,উপজেলা একাডেমীক সুপারভাইজার নুরুল আবছার,টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলম বাহাদুর,সাবরাং ইউনিয়নের আবুল কালাম ও আলহাজ্ব সোনালী।
এতে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা।
সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন বক্তব্য বলেন,
সাগর ও নাফ নদীর উপকুলীয় সীমান্ত পয়েন্ট সমূহ অরক্ষিত হয়ে বানের পানির মতো টেকনাফ থেকে মিয়ানমারে অকটেন সহ জ্বালানি, ভোজ তৈল, পেয়াজ, রসুন, চাল, ডাল, মরিচ ও সবজি জাতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র চলে যাচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র বার্মায় পচার করে দিচ্ছে। এব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আমজাদ হোসেন খোকন বক্তব্যে বলেন,টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও সাবরাং ইউনিয়নের পশ্চিম বঙ্গোপসাগর দিয়ে মাছ শিকারের ফিশিং বোট ও নৌকা দিয়ে পাচার হচ্ছে। দিনের বেলায় চোরা চালানীরা পৌরসভার বড় বড় মুদির দোকান ও আড়ত থেকে মালামাল ক্রয় করে টমটম, অটোরিকশা সি,এন,জি ও বিভিন্ন যানবাহন যোগে সাগরের পাশে অবস্থিত দোকান, ঘর বাড়ী ও ঝোপ জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে সন্ধ্যা বেলা হতে আরম্ভ করে ভোর রাত পর্যন্ত পাচার করে থাকে।
হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান মৌলনা নুর আহমদ আনোয়ারী বক্তব্যে বলেন,হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া, হীলাসহ বিভিন্ন চোরাই পথে পাচার হচ্ছে মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবার সঙ্গে ক্রিস্টাল ম্যাথ বা আইস পাচার বেড়েছে। উখিয়া টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ইয়াবা ও আইসের চালান। আবার সাগরপথে মাছ ধরার ট্রলারে করেও আসছে বিরামহীন গতিতে। বর্তমানে বেড়ে যাওয়া আইসের কারবারে রোহিঙ্গাদের বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাচারকারীরা সীমান্ত এলাকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখে চোখ রেখেই ইয়াবার চালান পাচার করছে। সীমান্ত এলাকায় পাচারকাজে রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি পারদর্শী হওয়ায় নানা সরকারি সংস্থার সদস্যরা এ ক্ষেত্রে রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বক্তব্য বলেন, টেকনাফের ওপার হচ্ছে মিয়ানমার। টেকনাফ থেকে তৈল,অকটেন যেভাবে পাচার হচ্ছে যার কারণে টেকনাফের দুর্নাম বেশী হচ্ছে। মিরিন ড্রাইভ সংলগ্ন জায়গায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তহল জোরদার বাড়াতে হবে। টেকনাফে নির্দিষ্ট বাজার ২টি। টেকনাফ হাই স্কুলের সামনে অবৈধ বাজার গুলো বন্ধ করে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন,সরকারী উন্নয়ন খ্যাতে কোন কাজে অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাঁড় দেওয়া হবেনা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ শাহীন আক্তার চৌধুরী বক্তব্যে বলেন,সরকার বৈদেশিক মুদ্রায় দেশের জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য বিদেশ থেকে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল আমদানি করে। আর নেই বৈদেশিক মুদ্রায় আনা পণ্য আমাদেরই কিছু লোভী মানুষ বিভিন্ন দেশে পাচার করে এদেশের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে সেটা ভাবাই যায়না। আমাদের সকল নাগরিককে মনে রাখতে হবে দেশের স্বার্থটিই সবচেয়ে বড়। সামান্য টাকার জন্য আমরা কোন ভাবেই দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দিতে পারিনা। সবাইকে দেশপ্রেমের কথাটা একবার ভাবতে অনুরোধ জানিয়ে মিয়ানমারে নিত্যপণ্য সামগ্রী পাচার বন্ধসহ প্রতিরোধে সকলের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার-৪,আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি বক্তব্যে বলেন, প্রতিমাসে একবার প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে আইন শৃঙ্খলা সভা করতে হবে। ইয়াবা মামলার পলাতক আসামি গুলো ইয়াবা সাথে জড়িত। এমনকি তাদের কাছে বিদেশি অস্ত্র মজুদ রয়েছে। নাফ নদীর পারে তাদের এখন প্রজেক্ট।সেখান থেকে ইয়াবা ঢুকায় আর আনে। বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই দেয়।
তিনি আরো বলেন,মাদক,মানব পাচার, চাঁদাবাজি, এনজিও কতৃক রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী খোলাবাজারে বিক্রি,মিরিন ড্রাইভে বিভিন্ন অপারাধ দমনে পুলিশের টহল জোরদার,চেকপোস্ট সমূহে যানজট নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ,অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ,টেকনাফ পৌর শহরে টমটম ও সিএনজি চালকের নিকট চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে মাছ তরকারি বাজার সহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন সাবেক এমপি বদি।
সমাপনি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোঃ আদনান চৌধুরী বক্তব্যে বলেন,
বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা তেল কোন ভাবেই মিয়ানমারে পাচার করতে দেওয়া যাবেনা।
টেকনাফে ৫ টি পেট্রল পাম্প,১০ টি খুচরা জালানি তেল বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জ্বালানি তেল কেনা-বেচার হিসাব দাখিল করতে হবে। বাংলাদেশি মাছধরার নৌকাগুলো বেশি টাকার লোভে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য সামগ্রী মিয়ানমারের গিয়ে বিক্রি করে আসছে।