শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই রাউজানে বইছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। চলতি মাসেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার খবরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা অনুসারে উপজেলা নির্বাচন হবে মার্চ মাসের দিকে। আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারক পর্যায় থেকে এবার ঘোষনা দেয়া হয়েছে এই নির্বাচনে দলীয় প্রতিক থাকছে না। এই ঘোষনা শুনে রাউজানের সাধারণ মানুষের ধারণা এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন।চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কে হবেন আওয়ামী লীগের দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে দল থেকে থাকছেন কোনো দলীয় প্রতীক। তবে যাদের নাম আলোচনায় আসছে, তারা কেউ এখনো এই নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয়। তারা সিদ্ধান্ত পেতে চান এলাকার সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর কাছ থেকে।
উপজেলার বিভিন্নস্থান ঘুরে দেখা যায় হাটবাজারের চা দোকান থেকে শুরু করে বাড়ির বৈঠকখানা পর্যন্ত চলছে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আলাপ আলোচনা। আলোচনার মাঠে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে,১নং হলদিয়া ইউনিয়নের ইয়াছিননগর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিন বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান পদে নতুনদের মধ্যে আছেন বিনাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আলহাজ্ব ইয়াছিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সহ সভাপতি কাউন্সিলর কাজী মোহাম্মদ ইকবাল, সহ-সভাপতি শাহজাহান ইকবাল, ইরফান আহমদ চৌধুরী, আওয়ামীলীগ ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা শ্যামল কুমার পালিত, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব বশির উদ্দিন খান, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন চোধুরী,। ভাইস চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আছে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শামীমা আকতার, কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি, রাউজান ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য লাকী চৌধুরী।পুরুষদের মধ্যে বিনাজুরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুকুমার বড়ুয়া, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক চৌধুরী সুমন, উপজেলা জন্মাষ্টামী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক তপন দে, উপজেরা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনছুর আলম।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আলোচিত প্রার্থীদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে সকলেই বলেন রাউজানের মানুষ আমাদের চিনেন। সেই সূত্রে আলোচনা করতে পারে। তবে এবিষয়ে তারা মুখ খুলতে চান না। সকলের বক্তব্য রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী আমাদের অভিভাবক। তিনি উপজেলা নির্বাচন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত মেনেই তারা কাজ করতে চান।