নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ বেসরকারি মাদ্রাসা বৃত্তি প্রকল্প "আন-নাবিল বৃত্তি প্রকল্প'২৩" এর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ১৬ ফেব্রুয়ারী জুমাবার নগরীর একটি অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহিম আল মামুনের সঞ্চালনা এবং সদস্য সচিব জালাল ইবনে আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের দাওয়াহ এ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জনাব ড. মোহাম্মদ শফী উদ্দিন মাদানী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক জনাব মাওলানা আব্দুর রহমান (বিসিএস- শিক্ষা)।
আরো উপস্থিত ছিলেন আন্-নাবিল শিশু কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের সম্মানিত উপদেষ্টা বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদরাসার অধ্যক্ষ জনাব মাওলানা আবু সালেহ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আন-নাবিল বৃত্তি প্রকল্প চট্টগ্রাম দক্ষিণ জোনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শহীদুল ইসলাম এবং আহ্বায়ক ইলিয়াস শাহরিয়ার ।
আরো উপস্থিত ছিলেন গোলাম রব্বানী, ত্বরিকুল ইসলাম, ফানাফিল্লাহ হক জিহাদী, ইফতেখারুল ইসলাম,আবু নাঈম জালালি, সাইফুল তানভীর, সারওয়ার হোসাইন, আব্দুল আজিজসহ আন নাবিল বৃত্তি প্রকল্পের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
সকাল ৮ঃ৩০ টায় অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন ঘোষণা করেন আন-নাবিল বৃত্তি প্রকল্প দক্ষিণ জোনের সম্মানিত সদস্য সচিব জালাল ইবনে আলী । তিনি উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জনাব ড. মোহাম্মদ শফী উদ্দিন মাদানী স্যার কচিকাঁচা শিশু কিশোরদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বিশেষ করে অভিভাবকদেরকে বাচ্চাদের প্রতি সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ভালো মানুষ হতে হলে ভালো মানুষের সঙ্গ দরকার। তাই তিনি আন-নাবিল শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক সংসদ সদস্যদের অনুসরণ করতে বলেন এবং তাদেরকেই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে বলেন।
প্রধান আলোচক জনাব মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেব বাচ্চাদের প্রতি সময়ের গুরুত্ব তোলে ধরেন এবং সময়কে কাজে লাগিয়ে নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হয়ে সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার দৃঢ় সংকল্প করতে বলেন।
উপদেষ্টা মাওলানা আবু সালেহ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ বলেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা আন- নাবিল বৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে শিশু কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ করতে চাই এবং তাদেরকে সৎ, দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আন-নাবিল শিশু কিশোর সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রদের হীনমন্যতা দূর করার জন্য এমন আয়োজন করা হয়ে থাকে।
তিনি একেকজন ইসলামিক স্কলার হয়ে সমাজ সংস্কারে ভুমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং একজন ভালো আলেম হয়ে সাধারণ মুসলিমের আত্মার চিকিৎসকের ভুমিকা রাখার আহ্বানও জানান।
এছাড়াও বৃত্তি সংবর্ধনার আয়োজনে আরো ছিল সংস্কৃতি পরিবেশনা। এই সংস্কৃতি পরিবেশন করেন আন-নাবিল শিশু কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পী বৃন্দ।
আন নাবিল বৃত্তি প্রকল্প'২৩ এ দক্ষিণ জোনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সর্বমোট ২১ জন ছাত্রকে ট্যালেন্টপুল এবং ৭১ জন ছাত্রকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, আন নাবিল বৃত্তি প্রকল্প'২৩ এ সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে দক্ষিণ জোনে "আন-নাবিল স্টুডেন্ট অফ দ্যা ইয়ার" হয়েছে তানযীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আবরার আহমেদ জাহিন।পরিশেষে দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।