নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম ৪ মার্চ ২০২৪ ইং সোমবার বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতির সহ-সভাপতি জসীম হাজারীর সভাপতিত্বে ও কার্যকরী সদস্য মো. দুলাল হোসেনের সঞ্চালনায় নগরীতে কর্মরত হকারদের পুনর্বাসন ব্যাতিত উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সর্বস্তরের হকার শ্রমিকদের উত্তাপিত ৬ দফা দাবিতে অবস্থান প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ঋষি বিশ্বাস। তিনি বলেন- হকারদের নিয়ম নীতি মেনে ফুটপাতে সামান্য রুটি রুজির দাবিতে সংগ্রাম করছে- এটা কখনো কাম্য নয়। মাহে রমজান মাসে হকারদের বিকাল ৩টা থেকে রাত পর্যন্ত তাদেরকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। নামধারী ব্যবসায়ী নেতারা জামায়াত বিএনপির দোসর।
দেশের আইন শৃঙ্খলা অবনতি করার জন্য কালোবাজারিরা খেটে খাওয়া মানুষের রুটি রুজির উপর আঘাত করে সরকারের উপর দোষারোপ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথি আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল আমিন মিয়া বলেন- হকারদের নিয়ে পুতুল খেলা না খেলে তাদের স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন জীবিকা পরিচালনা করার নিমিত্তে বাধা না দিয়ে সন্ত্রাসী লেলিয়ে না দিয়ে ভাতের অধিকার কেড়ে নেওয়া অমানবিক। প্রধান বক্তা মীরন হোসেন মিলন বলেন, ফুটপাতে নিরীহ নিপীড়িত লাঞ্ছিত হকারদের প্রতিদিন বিভিন্ন সন্ত্রাসীদেরকে ও মাস্তানদেরকে দিয়ে হকারদেরকে হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ১০ লক্ষের অধিক নি¤œ ও মধ্য শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। তাদের একমাত্র কেনাকাটার স্থান ফুটপাতের হকারী দোকান।
গার্মেন্টস শ্রমিক, দোকান শ্রমিক, বস্তীবাসী, রিক্সা শ্রমিক প্রায় সবাই স্বল্প আয়ের বেতনে চাকুরি করে একদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেশি, অন্যদিকে ছেলেমেয়েদের ভরণপোষণ করতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে। তার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৫ হাজারও অধিক হকার সদস্য রয়েছে। তারা তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, স্কুলের বেতন ইত্যাদি দিতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। দেশে বেকারত্বের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। তাই হকারদেরকে বেকার ও কর্মহীন না করে পূর্বের নিয়মে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। অন্যত্থায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবো। এতে আরও বক্তব্য রাখেন- আবুল খায়ের টিটু, হারুনুর রশীদ, জসীম মিয়া, সুধীর বাবু, আবুল কালাম, আবু বক্কর, কামাল হোসেন, মো. নুর নবী, মো. সোহেল সাব্বির, মো. মনজু, আব্দুর রহিম প্রমুখ।