নশ্বর এই পৃথিবীটা থাকার জায়গা নয়, অবিনশ্বর জগতে আমাদের যেতেই হবে। এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু দিন দিন আমরা কেনো জানি অদ্ভুত মানুষ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের চাওয়া পাওয়ার অন্ত নেই, আমরা কেনো? কোন মোহে এততই ব্যস্ত হয়ে পড়ি পৃথিবীটাকে নিয়ে,,, আমরা যা পেয়েছি তার অধিক চাই,, আমাদেরকে অর্থ -বিত্তের নেশায় পুরো মাতাল করে রেখেছে পৃথিবীময়। আমরা কাছের মানুষদের দুরে ঠেলে দিতে দ্বিধাবোধ করি না দুনিয়াবী সামান্য স্বার্থের কারণে। আমাদের কেন এতো অধঃপতন? আমরা কেনো এমন হলাম?
আসুন একটু ভেবেনি, যারা সন্তানের পিতা- মাতা হয়েছে তারা বুঝে সন্তানদের মায়া, মমতা, সন্তানের প্রতি কি এক বিরল ভালোবাসা। আমরা কি স্রষ্টার কথা কখনো নিরবে একাকী বসে ভেবেছি,,, তিনি আমাদের কততই যত্ন করে পৃথিবী দেখিয়েছেন।মহান রাব্বি করিম আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা ইচ্ছে করলে আপনাকে - আমাকে মাতৃগর্ভে মৃত্যু দান করতে পারতেন,,অথচ কতো নিরাপদে তিনি আমাদের পৃথিবীতে আগমন ঘটিয়েছেন। কোন ধরনের ঘাটতি রাখেনি সবকিছুই পরিপূর্ণভাবে আমাদেরকে দান করেছেন,,, আমরা যে পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিচ্ছি তা বেঁচে আছি সবিই তাঁর অনুগ্রহ করুণার দয়ায়।আমরা কি কখনো রবের শুকরিয়া আদায় করি,
আমাদের মালিক সবসময় তাঁর বান্দারা সহজ- সরল পথে থাকুক এটাই চাই, কেউ বিপথে গেলেও তিনি রাগ করে না, বরং তাঁকে ডাকে সহজ সরল পথে,,, এবং পাপিষ্ঠ বান্দাদের অনুতপ্ত অনুশোচনা হওয়ার পর রবের কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন।
অথচ অনেক গুনাহগার পাপী বান্দারা ফিরে আসতে চাই না রবের পথে,, তারা রবকে বিশ্বাস করে তাদের পাহাড় সমান অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য মনেকরে ফিরে আসে না শান্তির পথে। তারাই কততই না নির্বোধ,, আল্লাহর ক্ষমার দরজা সবসময় বান্দাদের জন্য খোলা,, আল্লাহ রহমত থেকে আমরা কোন যুক্তিতে নিরাশ হবো, তিনি তো আমাকে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাঁর হুকুম ছাড়া এক সেকেন্ড পৃথিবীতে থাকার ক্ষমতা কি কার ও আছে?
রবের নিদর্শন দেখতে বেশি দুর যেতে হয় না খোলা আকাশের নিচে খুঁটি বিহীন আসমানটা নিয়ে ভাবলে হয়ে যায়,।আসুন এই তীব্র শীতে রবের প্রেমে পড়ি , কোন এক নিরব জায়গায় গভীর রাতে বসে পড়ি রবের সান্নিধ্যে নিজের গোপন পাপ আত্মীয়, স্বজন,পাড়া, প্রতিবেশী জানলে লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নেবে, সেই পাপ ক্ষমার জন্য রবের দরবারে নিবেদন করি,, ( যদি ও রব সবার গোপন প্রকাশ্য সব খবর রাখেন) আসুন প্রতিটি মানুষ তার জানা অজানা সমস্ত গুনাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে রবের দরবারে ক্ষমা ভিক্ষা করি। একমাত্র তিনি ছাড়া কেউ নাজাত দিতে পারবে না,বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া সুপারিশ করার কেউ থাকবে না।
যারা বিশ্বাসী তাদের জন্য আছে সুসংবাদ, আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। মহান রাব্বি করিম আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুক,,,আমিন।