১২ই আগষ্ট,বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের "বশেমুরকৃবি সংস্কার আন্দোলন"শুরু হয়।
বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের গায়েবানা জানাজার মাধ্যমে এ আন্দোলন শুরু হয়। গায়েবানা জানাজার পরে আন্দোলনের ব্যানার উন্মোচন করা হয়।
পরবর্তী বিকেল ৫:৩০ এ শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিজেদের দাবি নিয়ে আলোচনা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
১৩ই আগষ্ট সকাল ১০টায় স্লোগানের সাথে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দিয়ে শিক্ষকদের আবাসস্থলের সামনে যায়।সেখানে শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ থেকে কিছুক্ষণ স্লোগান দেন।এরপরে তারা মাৎস অনুষদ, ভেটেরিনারি মেডিসিন এন্ড এনিম্যাল সাইন্স অনুষদ,কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীন উন্নয়ন অনুষদ ঘুরে কৃষি অনুষদের সামনে দিয়ে আবারো প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান করে।
সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাইস চ্যান্সেলর,ট্রেজারার,রেজিস্টার কাউকেই খুজে পাওয়া যায় না।পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেপুটি রেজিস্টার শারমিন নাহার ও মোহাম্মদ আবু আল বাশার শিক্ষার্থীদের দাবি শুনেন এবং প্রশাসনের মাধ্যমে দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
দাবি সমূহ:
১. রাজনৈতিক পরিচয়ে যেকানো ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা কর্মচারী সংগঠন ও ছায়া সংগঠনর অস্তিত্ব ও কর্মকাগু বিস্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করে দাপ্তরিক অদেশ জারি করতে হবে।
২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ছাত্র সংসদ গঠনের রূপরেখা প্রনয়ণ ও নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করতে হবে। একই সাথে স্বাধীন সাংবাদিক সমিতির পূৃষ্তাপাষকতা করতে হবে।
৩. নতুন ব্যাচ থেকে ট্রাই সেমিষ্টার পদ্ধতি বাতিল করে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করতে হাবে এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের দুটি মিডটার্ম পরীক্ষার পরিবর্তে একটি মিডটার্ম পরীক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করতে হব। টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার মাঝে একদিন বন্ধ রাখতে হবে।
৪. বিএস প্রাগ্রামে সিজিপিএ ২.৫০ এবং এমএস প্রোগ্রামে সিজিপিএ ৩.০০ এর নিচে হলে ভর্তি বাতিল করার নিয়ম প্রত্যাহার করতে হবে।
৫. সকল এনরোলমেন্ট ফি কমাতে হবে। সংগত কারনে পরীক্ষায় অনুপস্থিত হলে বিনা জরিমানায় পরীক্ষা অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে এবং এক্ষেত্রে ২০% নম্বর কর্তন বাতিল করতে হবে।
৬. এমএস ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির বাধ্যবাধকতা হিসেবে যথাক্রমে সিজিপিএ ৩.০০ এবং চাকুরীজীবী হওয়ার শর্তাদি রহিত করতে হবে এবং এসব প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্র নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সর্বাচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৭. সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকল অবৈধ বহিষ্কাকারাদেশ বার্তিল করতে হবে।
৮. সকল ছাত্রী হলের প্রভােষ্ট বডি থেকে পুরুষ শিক্ষক প্রত্যাহার করতে হবে।
৯. পূর্বে বাতিলকৃত সকল বাস সার্ভিস (ছাত্র ও শাটল) এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা মোতাবেক নতুন রুটে বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
১০. সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনোরকম একাডেমিক ও প্রশাসনিক হয়রানি করা যাবে না এবং কোন শিক্ষক এতে জড়িত গ্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নিত হবে।
১১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রয়োদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন খন্দকার এর প্রশাসন কর্তৃক অসহযোগিতার কারণে মিথ্যা মামলায় ভোগান্তি ও কারাবাসের দায় স্বীকার করে প্রশাসনকে ক্ষমা প্রার্থনা করত হবে ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরন দিতে হবে।
আগামী ১৮ই আগষ্ট রবিবারের মধ্যে উপরোক্ত দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারাবকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে কঠার কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা।