প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৩, ২০২৬, ৯:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৩১, ২০২৪, ৮:২৯ পি.এম
লোভী-(শেষ পর্ব)

রমিজের সহধর্মিণী পারভিনের চলাফেরার অনেক পরির্বতন হয়েছে যেমনটি তিনি চেয়েছে। দামি গহনা, গাড়ি, বাড়ি, টিক যা চেয়েছিল তার চেয়ে বেশি পেয়েছে। রমিজ অনেক জা্য়গায় খরিদ করলো, নিজের মনের মতো করে বাড়ির কাজ করতে লাগলো।
অসাধারন একটি বাড়ি পুরো উপজেলার সেরা বাড়ি হতে হবে সেজন্য সব কিছুতে পারভিনের তদারকি চলছে। রমিজ সন্তানদের ভবিষৎ নিরাপদ করতে তাদের নামে ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছে। নতুন বাড়ি উদ্বোধন করবে তাই বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছি রমিজ, বাড়িটিকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ।উদ্বোধনী অনুষ্টান শুঞবার দশ হাজার মানুষের দুপুরের ভূরিভোজের আয়োজন করেন। খাবারের আয়োজনের কমতি ছিলোনা, নামকরা মানুষরা অনুষ্ঠানে যোগদেন, বিল্ডিংটির ভেতরে বাইরে যারা একবার ঘুরে দেখেছে তাদের মনে এই সৌন্দর্যের ছোঁয়া ভুলার মতো নয়। এই বিশাল অনুষ্টানে শুধু কয়েকজন মানুষ ছাড়া বাকি সবাই উপস্হিত হয়।যারা আসেনি তারা হলেন মসজিদের ইমাম সাহেব, আর কিছু মুরব্বি যাদেরকে রমিজ নীতি কথা বলতেন, সবসময় যাদের সাথে তিনি থাকতেন।
অতিথি, আত্নীয় স্বজনরা বাড়িটি দেখে রমিজের প্রশংসা করেন, খাওয়া- দাওয়া শেষে একে একে সবাইকে বিদায় দিলো, নতুন বাড়িতে আজকে সবাই উঠবে পুরো পরিবারে আনন্দের সীমা নেই। রমিজ পারভিনকে বল্ল, আজকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো সবাই এসেছে একসাথে খাওয়া দাওয়া করেছে।পারভিন বল্ল, এমনি আসেনি তোমার এখন টাকা হয়েছে তাই ছুটে এসেছে, আগে তো অনেক অনুষ্ঠানে দাওয়াত করতাম আমার বাপের বাড়ির লোক ছাড়া কি কেউ আসতো? রাত দশটা সারাদিন সবাই কাজ করেছে তাই ক্লান্ত, তাছাড়া নতুন বাড়ি ঘুমাতে যাবে সবাই ঠিক সেই মুহুর্তেই রমিজের বুকের বাম পাশে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হলে মা,, রে,, বলে চিৎকার করে উঠলো।
রমিজের পুরো শরীর থরথর করে কাঁপুনি দিয়ে উঠলো , রমিজের অদ্ভুত বিকট শব্দ শুনে পরিবারে সবাই ছুটে আসলো, একজন বিশাল দেহের লোকটি নিমিষে দূর্বল হয়ে পড়লো ।সন্তান আর সহধর্মিণীর কান্নাকাটির শব্দ আশেপাশে প্রতিবেশী ছুটে এলো।
রমিজের চোখ দুটি যেনো বিশাল আকারে হয়ে গেলো , হাত পা গুলো ছুঁড়তে ছুঁড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। মসজিদের ইমাম সাহেব এলাকার মুরব্বিরা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করলো।মুহুর্তে পুরো পরিবারের শোকের ছায়া নেমে আসলো। ছোট ছোট সন্তানদের এতিম ও সহধর্মিণীকে বিধাবা করে না ফেরার দেশে চলে গেলো রমিজ।
রমিজ জীবনের কঠিন মুহুর্তে ও ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহকে ভয় করে অবৈধ পথে পা বাড়ায়নি ,, কিন্ত তাঁর সহধর্মিণী পীড়াপীড়িতে নফস শয়তানের কুমন্ত্রণায় ধাবিত হয়ে জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে লোভে পড়ে আর্দশ ন্যায় নীতিকে বিসর্জন দিয়ে অবৈধ পথে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠার পর পরপারে পাড়ি দিতে হল
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.