প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৫, ২০২৬, ১২:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৪, ১:৫১ পি.এম
ফিরে দেখা বিশ্বঃ- ৩ সাংবাদিকতার হারানো স্বাধীনতা ও বাস্তবতার নির্মম চিত্র- মো. কামাল উদ্দিন।

আমি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে লেখালেখির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত আছি। এই দীর্ঘ যাত্রায়, সাংবাদিকতার প্রতি আমার আগ্রহ এবং দায়িত্ববোধ আমাকে প্রতিনিয়ত নতুন বিষয় ও সমস্যার মুখোমুখি করেছে, যা আমাকে গভীর চিন্তা ও গবেষণায় নিমগ্ন করেছে। সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক, এর নৈতিকতা, স্বাধীনতা, এবং বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আমার পর্যবেক্ষণ এবং চিন্তাগুলোকে আমি লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফসল হলো আমার সাতশো পৃষ্ঠার বই, "সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কথা", যা সাংবাদিকতার ইতিহাস, উন্নয়ন, এবং এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ প্রদান করে।
আমি কেবল যে লেখালেখির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছি তা নয়, আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় থেকেছি। বিশ্বজুড়ে লেখকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন PEN-এর সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ আমাকে বহু দেশ ভ্রমণ এবং বিশ্বখ্যাত লেখক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের পথ সুগম করেছে। এই ভ্রমণগুলো আমার সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, দমনপীড়ন, এবং চ্যালেঞ্জগুলো আমি নিজ চোখে দেখেছি এবং সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি।
আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল সাতজন নোবেলজয়ী লেখক ও সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা। তাঁদের চিন্তা, আদর্শ, এবং পেশাগত জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছে। আমি তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি কিভাবে সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যকে অটুট রেখে সকল প্রতিকূলতার মুখেও নির্ভীকভাবে এগিয়ে যেতে হয়।
আজকের বাস্তবতায়, সাংবাদিকতা যে কতটা পরিবর্তিত হয়েছে এবং এর স্বাধীনতা কীভাবে হুমকির সম্মুখীন, তা আমার প্রতিদিনের পর্যবেক্ষণ। বর্তমানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা শুধুমাত্র আইনি বা সংবিধানের সীমারেখায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মালিকপক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ, সরকারি চাপ, এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে।
সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার একসময়ের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল, যা আজ মালিকদের হাতে বন্দী। তবে, এ চিত্র শুধু আমাদের দেশের নয়; পৃথিবীর বহু দেশেই সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন ও হুমকির ঘটনা বাড়ছে। সাংবাদিকতার এই সংকট মুহূর্তে, আমাদের উচিত সাহসিকতা ও সততার সাথে দাঁড়িয়ে থেকে সাংবাদিকতার মূল আদর্শকে পুনরুদ্ধার করা।
এই দীর্ঘ সময়ের লেখালেখি, গবেষণা, এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমি আজকের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৃতীয় পর্বের এই লেখা রচনা করলাম, যেখানে আমি বিশদভাবে আলোচনা করেছি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, চ্যালেঞ্জ, এবং এর সম্ভাবনাময় পরিবর্তন নিয়ে।
একসময় সাংবাদিকতা ছিল মহান ও স্বাধীন পেশা। আজকের বাস্তবতায় এই পেশা সেই মহত্ব ও স্বাধীনতার প্রতীক বলা যায় না। সাংবাদিকতা এখন অনেকাংশেই লুটপাট, দালালী, চাঁদাবাজি এবং তোষামোদের পেশায় পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ সাংবাদিকের হাতে আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই; সেই স্বাধীনতা এখন মালিকদের হাতে বন্দী।
বর্তমানে বেশিরভাগ পত্রিকার সম্পাদক ও মালিক মূলত সাংবাদিক নন; তারা নামের খ্যাতি ও ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা নিয়েছেন। এ ধরনের মালিকরা গণমাধ্যম টিকিয়ে রাখতে সরকারপন্থী হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। মালিকদের ইচ্ছার বাইরে সাংবাদিকরা কোনো কিছু লেখার সাহস পায় না, কারণ তারা প্রতিনিয়ত সরকারের চাপ ও মালিকের স্বার্থের মধ্যে আবদ্ধ।
অধিকাংশ গণমাধ্যম মালিক তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে সত্যিকার তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চান না। এর ফলে, সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত পেশাগত চাপ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখোমুখি হন। আমরা কেবল যে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছি, তা নয়; পৃথিবীর বহু দেশে সাংবাদিকদের অবস্থা আমাদের চেয়েও খারাপ।
যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং লেখালেখির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯-এ বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুদ্রণ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, এর সাথে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, কিংবা মানহানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা।
আমাদের দেশে সাংবাদিকদের অধিকারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেও, পৃথিবীর বহু দেশে এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজমান। বহির্বিশ্বে সাংবাদিকদের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করলে আমাদের নিজেদের অবস্থার সঠিক জবাব পাওয়া যাবে। বিশ্বের অনেক দেশে সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে যেসব দেশে সরকার স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী, বা যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল, সেখানে সাংবাদিকরা বিশেষ ঝুঁকির সম্মুখীন হন। দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বা সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে রিপোর্টিং করলে সাংবাদিকদের শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়, যাকে গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। নীচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশ তুলে ধরা হলো, যেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সীমিত এবং তারা শাস্তি ও হুমকির মুখে পড়ে থাকেন: ১. চীন:
চীনে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খুবই সীমিত, বিশেষ করে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বা দুর্নীতির প্রতিবেদন করলে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (CCP) সংবাদ মাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সাংবাদিকরা এখানে সরকারের সমালোচনা করলে জেল, গুম, এমনকি নির্যাতনের সম্মুখীন হতে পারেন।
সেন্সরশিপ: চীন সরকার প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইন্টারনেট সেন্সরশিপের জন্য "গ্রেট ফায়ারওয়াল" নামে পরিচিত ব্যবস্থা ব্যবহার করে।
শাস্তি: সাংবাদিকরা দুর্নীতি বা সরকারের অপকর্ম সম্পর্কে রিপোর্ট করলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ বা মিথ্যা অভিযোগের মামলাও করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সত্যি তথ্য প্রকাশ করার চেষ্টাকারী সাংবাদিক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।
২. রাশিয়া:
রাশিয়ায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ক্রমাগতভাবে সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনের অধীনে মিডিয়া ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন। সাংবাদিকরা যদি দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু লিখেন, তাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
হুমকি ও আক্রমণ: রাশিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রমণ, গুম এবং হত্যা বহুবার ঘটেছে। এমনকি অনেক সাংবাদিক হত্যা হয়েছে, যেমন আনা পলিটকোভস্কায়া, যিনি চেচনিয়ার যুদ্ধ এবং রাশিয়ান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন।
কঠোর আইন: ২০১৯ সালে পাস হওয়া একটি আইন অনুযায়ী, সরকার এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর প্রচার করলে শাস্তি হিসেবে জরিমানা ও জেল হতে পারে।
৩. উত্তর কোরিয়া:
উত্তর কোরিয়ার মত একদলীয় স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে সাংবাদিকতার কোনো ধরনের স্বাধীনতা নেই। সমস্ত গণমাধ্যমই কিম জং-উনের নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকার এবং নেতার বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হতে পারে।
সেন্সরশিপ ও প্রচারণা: উত্তর কোরিয়ার সমস্ত সংবাদমাধ্যম কেবল সরকারের প্রোপাগান্ডা প্রচার করে, এবং সাংবাদিকরা কোনো ধরনের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না।
শাস্তি: সরকার বিরোধী কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিকদের মারাত্মক শাস্তি দেওয়া হয়, এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও শাস্তির আওতায় আনা হয়।
৪. তুরস্ক:
তুরস্কে বিশেষ করে ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের সমালোচনা করলে সাংবাদিকদের কারাবন্দি করা হয়, এবং অনেক সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেল ও শাস্তি: তুরস্কে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়। এরদোয়ানের শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে অনেক সাংবাদিক এখনও কারাগারে আছেন।
মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ: সরকার অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
৫. ইরান:
ইরানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খুবই সীমিত। বিশেষ করে সরকারের ধর্মীয় নেতাদের বা বিপ্লবী গার্ডের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে সাংবাদিকদের আটক করা হয় এবং নির্যাতন করা হয়। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত, এবং যেকোনো ধরনের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করা কঠিন।
হুমকি ও কারাদণ্ড: দুর্নীতি বা সরকারের নীতি নিয়ে সমালোচনা করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বা জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। অনেক সাংবাদিককে সরকারি সমালোচনার জন্য আটক ও নির্যাতন করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বন্ধ: ইরানে বহু সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক সাংবাদিকের কাজ করার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
৬. সৌদি আরব:
সৌদি আরবে সাংবাদিকতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে রাজপরিবার বা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।
জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড: ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা তৈরি করেছিল। খাশোগি সৌদি সরকারের সমালোচনা করায় তাকে হত্যা করা হয়।
সেন্সরশিপ ও শাস্তি: সৌদি আরবে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। সাংবাদিকরা প্রায়ই শাস্তির মুখে পড়েন, এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ খুবই কম।
৭. মায়ানমার:
মায়ানমারে সামরিক জান্তা ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাংবাদিকদের জন্য কাজ করা অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে পড়েছে। সামরিক সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের গ্রেফতার এবং বিচার ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হয়।
গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযান: সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করলে সাংবাদিকদের গ্রেফতার এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বহু সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।
ইন্টারনেট এবং সংবাদ নিয়ন্ত্রণ: সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখে এবং যেকোনো ধরনের স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
৮. বেলারুশ:
বেলারুশে প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর শাসনামলে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনের পর থেকে সাংবাদিকরা অত্যন্ত ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
হুমকি ও নির্যাতন: সরকার বিরোধী প্রতিবেদন করলে সাংবাদিকদের ওপর হুমকি, আক্রমণ, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
সংবাদমাধ্যম বন্ধ: অনেক স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এবং অনলাইনে খবর প্রকাশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা কঠোরভাবে সীমিত। বিশেষ করে যেখানে স্বৈরাচারী শাসন বিদ্যমান, সেখানে সাংবাদিকরা দুর্নীতি বা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করলে জেল, নির্যাতন, বা হত্যার শিকার হতে পারেন। এসব দেশে সাংবাদিকরা প্রায়শই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না, এবং তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য গুরুতর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান- দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও The Daily Banner-
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.