প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৫, ২০২৬, ৯:২৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৪, ৫:৫৫ পি.এম
সাতকানিয়ায় মসজিদের ইমামকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা।

চট্টগ্রাম সাতকানিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ও সদর ইউনিয়নের মাঝামাঝি গরিবার ঝীল, ছোট-ডেমশা জামে মসজিদের যোগ্য ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলামকে প্রায় ৪ বছর সত্য-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়।
(২৭ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গনে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে এ বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এসময় ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন আমি আপনাদের মসজিদের ইমাম-খতিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলাম। আপনাদের পক্ষ থেকে মসজিদকেন্দ্রিক অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালনে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছি একজন ইমাম-খতিব হিসেবে সমাজ সংস্কারের কঠিন কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে অনেকে আমার কথাবার্তাই কিংবা আচার-আচরণে কষ্ট পেয়েছেন এরকমও হতে পারে, অথবা পরস্পর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এরকমও হতে পারে, তাই আমি এক্ষেত্রেও অকপটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
প্রত্যেকের কল্যাণের ও হেদায়েতের দোয়া করছি। দীর্ঘ এই সফরে আপনাদের অনেক ভালোবাসা, আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতায় আমি বারবার সিক্ত হয়েছি, যা আমি কখনো ভুলতে পারবোনা ,যে স্মৃতিগুলো হয়ত আমাকে চিরদিন আকৃষ্ট করে রাখবে। এই ভালোবাসা এবং স্মৃতিগুলো যেন আমাদের দুনিয়া আখেরাতের কল্যাণ বয়ে আনে সেই আশা ব্যক্ত করি।
এই সময় এলাকার ছেলে আসিবুল হক আসিফ (প্রবাসী) মুঠোফোনে বলেন দীর্ঘদিন যাবত মসজিদ-মাদরাসার সার্বিক উন্নয়ন ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে আমাদের ইমাম সাহেব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন৷ প্রবাস থেকে দেশে গেলে হুজুরের সাথে বেশ মেলামেশা হতো হুজুর অনেকটা ন্যায়পরায়ণ ছিল তার বিদায়ে আমরা সবাই আজ আবেগ আপ্লুত।
চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরিফ ইসলাম বলেন, ব্যবসার খাতিরে নিয়মিত এলাকায় থাকা হয় না তবে প্রতি শুক্রবার এলাকায় আসলে হুজুরের সাথে দেখা হয় আমার জানামতে অত্যন্ত ভালো ও উদার মনের মানুষ ছিলেন। যে কোন ইসলামী দলকে ভালবাসতেন এবং উম্মার স্বার্থে সমমনা ইসলামী দলের বৃহত্তর ঐক্যের চেতনা লালন করতেন। হুজুরের আমলে ফোরকানিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা এলাকার বাহিরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এলাকার গৌরব ও অসংখ্য পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছেন।
মুঠোফোনে সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ রিফন বলেন মসজিদের উন্নয়ন এলাকার শিশু-কিশোরদের কিভাবে দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামের দিকে ধাবিত করবেন এই ফিকির নিয়ে কাজ করতেন ও বিভিন্ন সময় কোরআন সুন্নাহর প্রোগ্রামে মুসল্লিদের সহযোগিতায় পুরস্কারের ব্যবস্থা করতেন।
এলাকার কৃতি সন্তান মৌলানা জুবায়ের মাদানী বলেন, হুজুর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা হিসেবে দীর্ঘদিন মাসিক ছুটি এমনকি ঈদের ছুটিও খুব বেশি কাটাতেন না। দোষে গুণে মানুষ তাই হুজুরের মধ্যে ছোটখাটো সংশোধনযোগ্য ভুল ত্রুটি থাকতে পারে এটা স্বাভাবিক, তবে আমার দেখার মধ্যে অত্যন্ত দায়িত্বপরায়ণ ও কর্মঠ ছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আমার ক্ষুদ্র পর্যবেক্ষণ একজন ইমামের যেসব গুণ থাকা দরকার (যেমন, সুমধুর কোরআন তেলাওয়াত, সাবলীল খুতবা, শুদ্ধ ভাষায় সুন্দর আলোচনা, দায়িত্বপরায়ণ, ন্যায়পরায়ন, যুগ-সচেতন, অন্যায় ও কুসংস্কারের ব্যাপারে আপোষহীন ইত্যাদি) আমি মনে করি হুজুরের মধ্যে বেশিরভাগই বিদ্যমান ছিল। কেবল এরাবিয়ান স্টাইলে ঈদের খুতবা শুনেই আমাদের মন জুড়ে যেত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম,মো: হাজী ফারুক, হারুনর রশিদ,রফিকুল ইসলাম, হাজী মো: জাকরিয়া,ওসমান গনি,মো: ফেরদৌস,দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ ইউসুফ, আলমগীর,তৌহিদ,লিয়াকত আলী,খোকা,কানন,মিজান,রুবেল,তানভীর সহ আরো অনেকে।
এই সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক বিভিন্ন ধরনের হাদিয়া, ফুলের মালা পরিধানসহ রাজকীয় সংবর্ধনা শেষে মাওলানা আরিফুল ইসলামকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.