প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৫, ২০২৬, ৮:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৭, ২০২৪, ১০:৩৫ পি.এম
পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ৮ মামলায় কারাগারে বিচারের দাবীতে আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ
সেলিম চৌধুরী,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ও পটিয়ার বহু অপকর্মের হোতা আ.ন.ম সেলিম উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ভূট্টোকে (৪৮) ৮ মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার দুপুরে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তাররাহুম আহমেদ জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ নির্দেশ দেন। এদিকে, শুনানী চলাকালে আদালত প্রাঙ্গনে গ্রেফতারকৃত সেলিমের কঠোর বিচারের দাবীতে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করে এলাকার ভূক্তভোগী ও বিক্ষুব্ধ জনসাধারন।
গত শনিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। সেলিম উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হিলচিয়া গ্রামের মৃত আহমদ নবীর ছেলে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দোসর সন্ত্রাসীদের অর্থ যোগান দাতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নুর বলেন, ‘আ ন ম সেলিম উদ্দিন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দোসর সন্ত্রাসীদের অর্থ যোগান দিয়ে সংগঠিত করে পটিয়ায় অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করার পরিকল্পনা করছিল। এছাড়াও সা¤প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনাসহ একাধিক ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে আরো ৪টি মামলা রয়েছে থানায়। বিস্ফোরক মামলা ও হত্যা চেষ্টাসহ চারটি মামলা রজু করে রবিবার তাকে পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জায়েদ নুর আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারনা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আজ (সোমবার) তাকে ওই মামলায় শোন এরেস্ট দেখানো হবে।
পুলিশ জানায়, আ ন ম সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় পটিয়া থানায় ৮ টি মামলাসহ প্রায় ১০টি অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে সে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পরিচয় দিত। তার নিজ গ্রামে ভুট্টু নামে পরিচিত থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে আ ন ম সেলিম উদ্দিন চৌধুরী, কখনো সেলিম উদ্দিন এভাবে ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল সে। তার সঠিক নাম নির্ধারণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। সে কখনো আওয়ামী লীগ নেতা, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করেছে।
শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হাতিয়ার ঘোনা এলাকায় কাজী এবাদুল্লহ শাহ জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকায় গ্রুপিং করে সে। এই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কয়েকবার হামলা, গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটেছে। এলাকার অনেক নিরীহ লোককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
গত ৪ আগস্ট পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলি চালানোসহ সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ইউসিবিএল ব্যাংক পটিয়া শাখা থেকে প্রায় এক কোটি টাকার ঋণ নেয় প্রতারক সেলিম। উক্ত টাকা আতœসাৎ করায় সেলিম বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপী তালিকায় রয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলার সৈয়দ মোরশেদুল আলম নামের এক ঠিকাদার জানান, ‘সেলিম একজন বড় মাপের প্রতারক। ফটিকছড়িতে ঠিকাদারী লাইসেন্সে কাজ পায় সে।
ওই কাজে আমরা ইনভেস্ট করি। কিন্তু সে আমাদের না জানিয়ে বিল তুলে ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ নিয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি। সে আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। টাকা চাইলে সে আমাকে পটিয়ার সাবেক এমপি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদার ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলমের প্রভাব দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিত।
চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী পাড়ের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে পাথর ব্যবসা করে ৫৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে সেলিম। এরপর সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পাচলাইশ থানাধীন সিএমএম কোর্টে মামলা হয়। মামলাটি পিবিআই পুলিশ তদন্ত শেষে সেলিম উদ্দিনের নামে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে।
আরো জানা যায়, আসাদুজ্জামানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হোসাইন এন্ড ব্রাদার্সের সঙ্গে সেলিম উদ্দিনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ম্যান্স ট্রেডার্স যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আওতায় ঠিকাদারী ব্যবসা করে। এ ব্যবসা থেকেও প্রায় ৫৯ লাখ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে সেলিমের বিরুদ্ধে।
Copyright © 2026 Chattol Voice. All rights reserved.