, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

অপ্রতীম হত্যা মামলায় আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। তাঁদের মধ্যে তুহিনকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের বিষয়ে আইনগত সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে অপ্রতীমের সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশের দাবি। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তাঁর বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দির পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত