রাজধানীর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আইনজীবী আবুল বাশারের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে দুই শতাধিক আইনজীবীর উপস্থিতি এবং একপর্যায়ে তাদের একটি অংশের আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটে।
পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আবুল বাশারকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। পরে জামিন শুনানির জন্য তাকে এজলাসে তোলা হলে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী আদালতকক্ষে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এজলাসের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শুনানির আগে আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও কোলাহল নিয়ে আপত্তি ওঠে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনানির উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য ওকালতনামা দাখিল করা আইনজীবী ছাড়া অন্যদের এজলাস থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। এর পর উপস্থিত আইনজীবীদের একটি অংশ আদালতকক্ষ ত্যাগ করে বাইরে অবস্থান নেন এবং প্রতিবাদ করেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া আইনজীবীদের কেউ কেউ নিজেদের আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালতকক্ষে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুনানির সময় আবুল বাশার নিজেই নিজের পক্ষে আইনগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতে ওকালতনামা জমা দিয়ে জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি শোনার পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম আবুল বাশারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পল্লবী মেট্রোরেল এলাকায় একটি মিছিল ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী পল্লবী থানার এসআই সোহান মোল্লা।
আবুল বাশার ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। বুধবার রাতে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনে তাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরদিন তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের ব্যাপক উপস্থিতি, আদালতকক্ষে উত্তেজনা এবং একাংশের প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে বৃহস্পতিবার দিনভর আদালতপাড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছিল।
ইতি/
