, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 76%

পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজে নতুন রেকর্ড গড়েছে সৌদি আরবভিত্তিক অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২২ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে আগের রেকর্ড ভেঙেছে।

গত ১৮ অক্টোবর ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএমের জাহাজ ‘এমভি আমুরো’তে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সময় এ সাফল্য অর্জিত হয়। ওই কার্যক্রমে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২টি কনটেইনার মুভ সম্পন্ন হয়। মাত্র ২১ ঘণ্টায় জাহাজটিতে মোট ১ হাজার ৫২৪টি কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়, যা ২ হাজার ৫৭১ টিইইউর সমান।

আরএসজিটি সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পিসিটিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮টি কনটেইনার বা ৮২ টিইইউ হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড ছিল। এক মাসের ব্যবধানে নতুন রেকর্ডে ঘণ্টাপ্রতি কনটেইনার মুভের সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ এবং টিইইউভিত্তিক হ্যান্ডলিং প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। গত আগস্টে টার্মিনালটিতে নতুন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন চালুর পর এটিই সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতার রেকর্ড।

বন্দরসংশ্লিষ্টদের মতে, কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি বাড়লে জাহাজের বন্দরে অবস্থানকাল কমানো সম্ভব হয়। এতে জাহাজ পরিচালনার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বার্থের কার্যকর ব্যবহার এবং পরবর্তী জাহাজের জন্য দ্রুত জায়গা খালি করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নেয় আরএসজিটি। টার্মিনালটির আধুনিকায়নে প্রতিষ্ঠানটি চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি চারটি আধুনিক শিপ-টু-শোর ক্রেন সংযোজন করেছে। এসব ক্রেন স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটিতে ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বন্দরে মোট ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ এসেছে।

পতেঙ্গা টার্মিনালে নতুন এ অর্জন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে টার্মিনালটির সক্ষমতার আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত