দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম পিটিআইয়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। আদালতের রায়ের পর সেই জটিলতা কেটে যাওয়ায় দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ফলে সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার তদারকি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউপিটিসি ও পিটিআই ইন্সট্রাক্টরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা রয়েছে। এসব পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের রায় পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বেতন কাঠামোতেও পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। শুধু চাকরির মেয়াদ বিবেচনা না করে নিয়মিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বেতন-সুবিধা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন শিক্ষক নীতিমালায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে।
শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে। বর্তমানে পিটিআইয়ে চলমান দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কমিয়ে প্রায় দুই মাসে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রশিক্ষণ কর্মস্থলে ‘অন দ্য জব’ পদ্ধতিতে দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে অল্প সময়ে বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক শিক্ষার পরিমার্জিত কারিকুলামে সক্রিয় শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। খেলা, গল্প ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিফট ও দৈনিক পাঠদানের সময় নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ছোট শিশুদের জন্য বড় মাঠের পরিবর্তে বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী প্লেগ্রাউন্ড তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যালয় মনিটরিং, মূল্যায়ন, বদলি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং পাঠদানের পদ্ধতিতে ধারাবাহিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইতি/
