চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) পুরোনো ছাত্রাবাসগুলোর অবকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। কোথাও ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও পুরোনো স্থাপনা ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কমাতে নতুন ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।
চমেকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবছর গড়ে ২২৫ জন শিক্ষার্থী এমবিবিএস এবং ৬০ জন শিক্ষার্থী বিডিএস কোর্সে ভর্তি হন। বর্তমানে কলেজে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি এমবিবিএস এবং কয়েক শ বিডিএস শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
পুরোনো আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে কয়েকটি দীর্ঘদিনের হওয়ায় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছু ভবনে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ফলে আবাসনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
এই পরিস্থিতিতে চমেকের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) তথ্য অনুযায়ী, চমেকের ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণকাজের সাইটে পুরোনো চারতলা ভবন নিলামের পর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণস্থলে পরীক্ষামূলক পাইলিংয়ের কাজও এগিয়েছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চমেকের জন্য ১৫ তলা ছাত্রাবাসে ৫৬০ জন এবং দুটি ৮ তলা ছাত্রীনিবাসে মোট ৫০৪ জনের আবাসনের ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। অর্থাৎ নতুন ভবনগুলো বাস্তবায়িত হলে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা বাড়বে। এ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ দেশের ১০টি মেডিক্যাল কলেজে মোট ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময় ও ব্যয়—দুটিই বেড়েছে। ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১০টি মেডিক্যাল কলেজের ১৯টি হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত ২০১ কোটি ৭০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে এবং প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছর মেয়াদি ১৯ হোস্টেল প্রকল্পের তিন বছর শেষ হওয়ার পথে থাকলেও সার্বিক অগ্রগতি ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।
এদিকে চমেকের নতুন হোস্টেল নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। গত ২৪ মে এইচইডির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন এবং কাজের পাশাপাশি সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
নতুন ভবনগুলো দ্রুত নির্মাণ শেষ হলে একদিকে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক ভবনের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটও অনেকটা নিরসন হবে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো হোস্টেলগুলোর জরুরি সংস্কার ও নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শনের প্রয়োজন রয়েছে।
ইতি/
