, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 87%

চট্টগ্রামে তৈরি হচ্ছে নতুন ‘জঙ্গল সলিমপুর’

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার বরইতলীতে সরকারি খাসজমি দখল করে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ও সরকারি নথি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে পাহাড়ের ঢাল ও খাঁজে গড়ে উঠেছে শত শত ঘর। কোথাও পাহাড় কেটে নতুন প্লট তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে নতুন ঘর নির্মাণ।

জেলা ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার কয়েকটি দাগে প্রায় ৯৪ দশমিক ৪৫ একর জমি সরকারি খাসজমি হিসেবে নথিভুক্ত। এসব জমির বড় অংশ পাহাড়ি এলাকা হলেও বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে, শুধু বরইতলী এলাকায় তিন শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। আশপাশের পাহাড়েও রয়েছে আরও কয়েক শ ঘর। তবে সরকারি পূর্ণাঙ্গ জরিপ না থাকায় দখল হওয়া জমি ও বসতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই ৭০ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে ছোট জায়গা নিয়েছেন। তবে অধিকাংশের কাছেই জমির বৈধ মালিকানার দলিল নেই। এমনকি কয়েকটি জায়গা হাতবদলের অনিবন্ধিত কাগজপত্রের তথ্যও পাওয়া গেছে।

সরকারি তদন্তেও পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ১৪টি স্থান পরিদর্শন করে প্রায় ১৮ হাজার ৯৯৪ ঘনফুট পাহাড়ি মাটি কাটার প্রমাণ পায়। এ ঘটনায় গত ৪ আগস্ট ১৪ জনকে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে জরিমানার পরও কেটে ফেলা পাহাড়ে বসতি রয়ে গেছে এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি খাসজমি দখল ও অবৈধভাবে কেনাবেচার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, বরইতলীকে আরেকটি ‘জঙ্গল সলিমপুর’ হিসেবে গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। অবৈধ বসতি ও দখলের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের মতে, নিম্নআয়ের মানুষকে সামনে রেখে প্রথমে বসতি তৈরি এবং পরে সেই বসতির আড়ালে পাহাড় কেটে জমি সম্প্রসারণ—এটি পাহাড় দখলের পরিচিত একটি কৌশল। তাঁর মতে, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে শুরুতেই বরইতলীতে পাহাড় কাটা ও সরকারি জমি দখল বন্ধ করা জরুরি।

প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে বরইতলীকে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অবৈধ বসতিতে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকানো সম্ভব। এজন্য পাহাড় কাটা বন্ধ, সরকারি জমি উদ্ধার এবং অবৈধভাবে জমি হাতবদলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত