, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনার খরচ সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে পোনা বিতরণের পর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের শিক্ষার পরিধি আরও বাড়াতে সরকার অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে শুধু শিক্ষা খরচ বহন করাই নয়, ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্বে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও সহায়তা

প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এসব শিক্ষা উপকরণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবছর বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ

নারী শিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিবারের দায়িত্বে থাকা নারীদের হাতে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ও পরিবারের আর্থিক সহায়তার কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নারী শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের প্রত্যাশা

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্থিক কারণে যেসব পরিবারের মেয়েরা অনার্স পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য সরকারি অর্থায়নের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকায় উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী শিক্ষা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নারীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে একই নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—লক্ষ্য হলো শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত