দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার তদন্তে নতুন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আদালত সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে তাদের অবস্থান শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাখিল করা আবেদনের শুনানি শেষে কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত এ আদেশ দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য ও ফরেনসিক উপাত্ত বিশ্লেষণের কাজ চলমান রয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একাধিকবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএনএ বিশ্লেষণ, আলামত পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ঝোপ থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ঘটনার এক দশক পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বিষয়টি এখনও জনমনে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে।
সর্বশেষ আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে মামলার তদন্ত নতুন গতি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে দীর্ঘদিনের বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীর পরিবারসহ সচেতন মহলের।
ইতি/
