, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 76%

জনবল সংকটে চট্টগ্রামের সাইবার পুলিশ সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রামে উদ্বোধন করা হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার। তবে উদ্বোধনের পরও কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে ফরেনসিক ইউনিটের নয়জন কর্মকর্তা প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে, সাইবার ইউনিটের জনবল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর নগরের খুলশী থানার দামপাড়া পুলিশ লাইন্স এলাকায় সিআইডি কার্যালয়ের পাশে কেন্দ্রটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে সাইবার অপরাধ তদন্তে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকানির্ভরতা কমবে এবং তদন্তের গতি বাড়বে।

সাইবার অপরাধের তদন্তে মুঠোফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক ও মেমোরি কার্ডের মতো ডিভাইস গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব যন্ত্রে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে যোগাযোগের বিবরণ, অপরাধের ধরন ও ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিশেষায়িত প্রযুক্তির সহায়তায় কিছু ক্ষেত্রে মুছে ফেলা তথ্যও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

এতদিন চট্টগ্রামে তদন্তের প্রয়োজনে এসব ডিজিটাল আলামত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সহযোগিতা নিতে হতো। নতুন কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে স্থানীয় পর্যায়েই এসব পরীক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিআইডির চট্টগ্রাম কার্যালয়ে স্থাপিত চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ফরেনসিক রিসেপশন, মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব ও প্রি-ট্রিটমেন্ট ল্যাব। এসব সুবিধার মাধ্যমে ডিজিটাল আলামত গ্রহণ, প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় কেন্দ্রটির সব সুবিধা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় একটি আটতলা ভবন থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জব্দ করা ১৭০টি ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা ওই মামলায় ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬৭টি বিচারাধীন। অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় সাইবার আইনে ৫০টি মামলা হয়েছে।

সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ শনাক্ত ও দমনে এসব পরীক্ষাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন জানান, ফরেনসিক ইউনিটের নয়জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁরা প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছেন। তবে সাইবার ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি।

তিনি বলেন, বর্তমানে আসা কাজগুলো ঢাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত হলে চট্টগ্রামে সাইবার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত