ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা পেতে সরকারের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের আয়, সঞ্চয়, জমি, ব্যবসা ও যানবাহনের মালিকানাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে নির্বাচন করা হবে উপকারভোগী। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী, আটটি শর্তের যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে একটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তা পাওয়ার অযোগ্য হতে পারে।
নীতিমালায় প্রথমেই রয়েছে পরিবারের পিএমটি স্কোরের বিষয়টি। নির্ধারিত সীমার বেশি স্কোর হলে পরিবারটি এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে পরিবারটি অযোগ্য বিবেচিত হতে পারে। নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও এ শর্তের আওতায় পড়তে পারেন।
তৃতীয়ত, নারী প্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা সমজাতীয় অবসর সুবিধা পেলে পরিবারটি বাদ পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।
চতুর্থত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, স্থায়ী আমানত কিংবা অন্য বিনিয়োগ থাকলে মিলবে না সুবিধা।
পঞ্চমত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে নিবন্ধিত নির্দিষ্ট শ্রেণির তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলেও কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে নীতিমালায় উল্লেখিত বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহন রয়েছে।
ষষ্ঠত, পরিবারের কোনো সদস্যের বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত নির্ধারিত শর্তের আওতাভুক্ত ব্যবসা থাকলে পরিবারটি অযোগ্য হতে পারে।
সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে বা করযোগ্য আয় থাকলে নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী পরিবারটি বাদ পড়তে পারে।
অষ্টমত, বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ নির্ধারিত সীমায় পৌঁছালে অথবা নির্ধারিত বাজারমূল্যের বেশি অকৃষি কিংবা বাণিজ্যিক জমি থাকলে এই সহায়তা পাওয়া যাবে না।
যাঁরা পাবেন অগ্রাধিকার
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্ন আয়ের, ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবারকে। পাশাপাশি উপার্জনে অক্ষম সদস্য থাকা পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী পরিবার এবং প্রতিবন্ধী বা অটিজমে আক্রান্ত সদস্য রয়েছেন—এমন পরিবারও অগ্রাধিকার পেতে পারে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ
কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সহায়তার উপযুক্ত পরিবার চিহ্নিত করা হবে।
তথ্য সংগ্রহের জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না। ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে কেউ টাকা দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি নীতিমালার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে কারা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন।
ইতি/
