আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার স্বীকৃতি পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ছয় শিক্ষক। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন তাঁরা। ২০২৬ সালের এ তালিকা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল ও প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের গবেষণাভিত্তিক তথ্যের ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চুয়েটের চার শিক্ষক এ তালিকায় ছিলেন। এবার আরও দুই শিক্ষক যুক্ত হওয়ায় তালিকাভুক্ত চুয়েট শিক্ষকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে।
তালিকায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তিনজন এবং রসায়ন, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী ফলিত পদার্থবিজ্ঞান উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৪১৮তম অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৮৮টি। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিনের গবেষণাপত্র ৮৭টি এবং এ উপক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ৪ হাজার ৫৪১তম। অধ্যাপক ড. মো. মুক্তার হোসাইনের ৮১টি গবেষণাপত্র রয়েছে; তাঁর অবস্থান ৫ হাজার ১১৯তম।
রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউনুস আহমেদ সাধারণ রসায়ন উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ৪২৬তম অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৩৪টি।
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিত মজুমদার বিশ্লেষণাত্মক রসায়ন উপক্ষেত্রে ৯৪১তম অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্র রয়েছে ২০টি।
অন্যদিকে, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া নির্ভরযোগ্য শক্তিবিষয়ক উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ৭ হাজার ৩৫০তম অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৪৪টি।
যেভাবে তৈরি হয় গবেষকদের তালিকা
এ তালিকা তৈরিতে গবেষণাপত্রের সংখ্যা ছাড়াও সাইটেশন, গবেষণার প্রভাব, সহলেখকের ভূমিকা এবং লেখক হিসেবে গবেষকের অবস্থানসহ একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। এর মূল তথ্যসূত্র হলো এলসেভিয়ারের স্কোপাস ডেটাবেজ।
এলসেভিয়ারের প্রকাশিত ২০২৬ সংস্করণের তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সামগ্রিক সি-স্কোরে শীর্ষ এক লাখ গবেষকের মধ্যে থাকা অথবা সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপক্ষেত্রে শীর্ষ ২ শতাংশের মধ্যে স্থান পাওয়ার মানদণ্ড রয়েছে।
চুয়েটের ছয় শিক্ষকের এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাকর্মের আন্তর্জাতিক পরিচিতি তুলে ধরছে। একই সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা জোরদারের গুরুত্বও সামনে এনেছে।
ইতি/
