, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 76%

চট্টগ্রামে সাইবার ল্যাব চালু, পর্যায়ক্রমে আট বিভাগে স্থাপনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ এবং অপরাধ তদন্তে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ লাইন্সের দামপাড়ায় সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বুধবার সকালে উদ্বোধন করা এই কেন্দ্র ও পরীক্ষাগার কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা কোইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে এ ধরনের পরীক্ষাগারের বিকল্প নেই।

তিনি জানান, একটি বিশেষায়িত পুলিশ সাইবার ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা থেকে গত ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ইউনিট সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কাজ করবে।

নতুন ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রাখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ ও প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি শেয়ারবাজারেও কারসাজির ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশকে আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে। সিআইডির বিদ্যমান পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা ও প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রমও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, তবে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। অপরাধী গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া বা পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হয়। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কেউ সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ সাইবার পরিসর’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। একই বছরের ১৫ মে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা ভবনের ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিআইডি সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় তিনটি দেশীয় ও আটটি বিদেশি প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সরদার নুরুল আমিন এবং কোইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক জি-হুন কিম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।

আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সাইবার অপরাধ তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত