চট্টগ্রামে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সম্মানী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কিশোরগঞ্জ সফরে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচির বিষয়টি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) আগেই নিশ্চিত করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের পরিসর বাড়ানো প্রয়োজন। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে চট্টগ্রামে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়েও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে কারও বর্তমান বক্তব্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতীত কর্মকাণ্ডও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবায় সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রামের মানুষকে সাধারণ চিকিৎসার জন্য দূরের জেলা শহর বা রাজধানীতে যেতে না হয়—এমন লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানান তিনি।
শিক্ষায় দক্ষতা ও বহুমুখী সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব
শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু সনদনির্ভর না থেকে কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি বিদেশি ভাষা শেখা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও উল্লেখ করেন।
মৎস্য খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
এর আগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের নদী, খাল, বিল, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়কে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। বাসসের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৬ আগস্ট তিনি পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং পরে কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জলাশয় সংস্কার ও মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বেকার তরুণদের মৎস্য খাতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে একদিকে মাছের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সহায়তা
কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সম্মানী প্রদান করেন। বাসস জানিয়েছে, এ অনুষ্ঠানে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয়।
সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতি/
