, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 91%

মৃত্যুফাঁদে পরিণত জাহাজ, থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও দুর্ঘটনাস্থলের মূল অংশে পৌঁছাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাসের ঝুঁকি। জাহাজের ভেতরে এখনো বিষাক্ত গ্যাস থাকার আশঙ্কায় নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার তিন দিন পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও গ্যাসের উৎস নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নতুন একটি দল মাঠে নামানো হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত এই দলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়। তবে জাহাজের ভেতরে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে দুর্ঘটনার মূল স্থানে সরাসরি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও বিস্তারিত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ইয়ার্ড এলাকা পরিদর্শন করেছে বলে পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের নতুন দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান। তাঁদের মূল কাজ হলো জাহাজের কোন অংশে কী ধরনের গ্যাস রয়েছে, গ্যাসের ঘনত্ব কত, কোথা থেকে তা ছড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা।

বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো গ্যাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এ কাজে আন্তর্জাতিক মানের দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও যুক্ত করা হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর জাহাজের ভেতরে অতিমাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও এই বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছিল। গ্যাসটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং উচ্চমাত্রায় শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে।

গত শুক্রবার সকালে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় পুরোনো একটি জাহাজ কাটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজের বদ্ধ অংশে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ৯ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর জাহাজটিকে ভাঙার আগে দেওয়া নিরাপত্তা সনদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিদর্শনের পর জাহাজটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হলেও দুর্ঘটনার পর সেখানে প্রাণঘাতী গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্তে আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ তদন্ত শেষ হলে গ্যাসের প্রকৃত উৎস, দুর্ঘটনার কারণ এবং জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। নতুন বিশেষজ্ঞ দলকে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত