টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পরও চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৮০০ জন আক্রান্ত এবং ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য।
সংক্রমণ বাড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত ৯ মাস বয়স থেকে টিকাদান শুরু হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামে ৬ মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুকে যথাযথভাবে আলাদা না রাখা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকলে টিকা নেওয়া ব্যক্তির মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে টিকার কার্যকারিতা ও সংক্রমণের ধরন নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর চাপ। হামের রোগীদের জন্য ১০০টি শয্যা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৭০ শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে এক বিছানায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আইসোলেশন এবং হাসপাতালগুলোতে কার্যকর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইতি/
