, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

উপাচার্য বদলের প্রতিবাদে চুয়েটে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। টানা আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে নিয়মিত ক্লাসও। 

গত ২১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন রাতেই উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ার পর পরদিন থেকে মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল, অবস্থান, গণস্বাক্ষর ও প্রশ্নযাত্রার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর কোনো কারণ প্রকাশ না করেই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, অধ্যাপক সায়েম চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও চাকরির সুযোগ নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন বলে জানান তাঁরা।

অন্যদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এর আগে তিনি কুয়েটে সহ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কুয়েটের আন্দোলনের মধ্যে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর নিয়োগের বিষয়ে আইনি বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চুয়েটের শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতাও অধ্যাপক সায়েমকে অল্প সময়ের মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আগের উপাচার্যের কার্যক্রমে কোনো সমস্যা থাকলে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল।

এদিকে আন্দোলনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মঈনুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এসব পরীক্ষার নতুন সময়সূচিও এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ইতোমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা এবং তাঁকে সরানোর কারণ স্পষ্ট না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ ও অপসারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৩ সালের আইনে আচার্যের ক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজন মনে করলে উপাচার্যকে কারণ দর্শানো ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল প্রশ্ন, অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব দেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যেই কেন পরিবর্তন করা হলো এবং এর পেছনের কারণ কী।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত