, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 73%

চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব করার পরিকল্পনা মেয়র শাহাদাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও উপত্যকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে নগরীকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলার ডালিয়া হলে দি বাংলাদেশ মনিটর আয়োজিত ১৭তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি বাংলাদেশ মনিটরের চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম।

তিন দিনব্যাপী ‘ছুটি বে-চিটাগাং ট্রাভেল মার্টে’ এয়ারলাইন, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, হোটেল-রিসোর্ট, হাসপাতাল ও মেডিকেল রেফারেলসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ২৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

মেয়র শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের পরিচয় শুধু বন্দরনগরী বা বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে নয়। পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও উপত্যকার সমন্বয়ে এ নগরীর রয়েছে অনন্য পর্যটন বৈশিষ্ট্য। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে চট্টগ্রামকে প্রতিষ্ঠা করতে যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চট্টগ্রামের বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যকে একটি সমন্বিত রুটের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। এতে চট্টগ্রাম দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নগরের সৌন্দর্য ও পর্যটন সুবিধা বাড়াতে বিমানবন্দর সড়কে সবুজায়ন, ওয়াকওয়ে, খালের পাড় উন্নয়ন এবং সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেয়র বলেন, সাইকেল ট্র্যাক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি পর্যটন ও বিনোদনের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

নগরের বিভিন্ন খালের পাড়কে পর্যটন ও বিনোদনের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। ওয়াকওয়ে, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে এসব এলাকায় নতুন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর ওপারের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, সবুজায়ন ও পাখির অভয়ারণ্যের মতো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রামে আধুনিক একটি ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মেয়র। সেখানে উন্মুক্ত স্থান, ওয়াকওয়ে, লাইব্রেরি, কফিশপ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মেয়র বলেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত হিসেবে দেখলে হবে না। এ খাতের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত