, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 76%

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারক করতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ঢাকায় আসা অনেক চাকরিপ্রার্থীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এবারের পরীক্ষায় অনিয়মের ঝুঁকি এড়াতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সচিবালয়ে অবস্থান করছেন। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর আগে পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার কথা। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঘটনাটি তদন্ত করছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।

প্রায় তিন লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকা এই নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যেন চাকরিপ্রার্থীদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে প্রত্যাশাই করছেন পরীক্ষার্থীরা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত