পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ শিশু ও একজন নারী শিক্ষক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শহরের একটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আল-খায়ের এডুকেশন সেন্টার নামের স্কুলটিতে ক্লাস চলাকালে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করতে কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।
ঘটনার পর হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিহতদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানদের খোঁজে স্কুলের সামনে ভিড় করেন অভিভাবকেরা।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতা দুর্ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টির প্রভাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে ছাদ ধসের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্কুলটির মালিককে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাঁরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নিরাপত্তা নিয়ে এ দুর্ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ও কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবনের কাঠামো পরীক্ষা, নির্মাণমান যাচাই এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জোরালো হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেশোয়ারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সেই দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ইতি/
