পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশাল আকৃতির ‘প্লাস্টিক দানব’ এখন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। সমুদ্র ও পরিবেশদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করতেই ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সৈকতের সীগাল পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্য। এতে ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য। ২০২২ সাল থেকে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে আয়োজকেরা।
ভাস্কর্যটির হাতে রাখা হয়েছে উপড়ে ফেলা একটি গাছ, যা প্রকৃতির ওপর প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ভাস্কর্য দেখে পর্যটকেরা শুধু ছবি তুলবেন না, বরং প্লাস্টিকের ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও সচেতন হবেন।
প্লাস্টিক দানবের পাশে রাখা হয়েছে অস্থায়ী থিয়েটার ও দোকানের ব্যবস্থা। সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র দেখার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।
তবে শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা নয়, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ এবং প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
পরিবেশকর্মীদের মতে, এখনই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে।
ইতি/
