, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

ধর্ম যার যার, বাংলাদেশি পরিচয় সবার: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম, বর্ণ কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় হলেও জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান হওয়া উচিত।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঐতিহাসিক সংগ্রামে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না। দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার সময় ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই পারস্পরিক সংহতি ও মানবিকতার পরিচয় বহন করে।

নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের চোখে সব নাগরিক সমান। সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করা কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার সীমিত করা উচিত নয়। দেশের আইন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখবে।

কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো একটি সম্প্রদায়ের একক প্রচেষ্টায় নয়, বরং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণেই একটি শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সংসদ সদস্য এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত