ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শীতকাল সামনে রেখে গ্যাসের মজুত তুলনামূলক কম থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দাম বাড়ছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর ইউরোপের গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক গ্যাসবাজারের গুরুত্বপূর্ণ সূচক নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ (টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি) হাবে গ্যাসের দাম প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে ১ হাজার ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। ১৩ অক্টোবরের লেনদেনে নভেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য টিটিএফ ফিউচারসের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮৬.৭৯ ইউরো পর্যন্ত উঠেছিল, যা প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে আনুমানিক ১ হাজার ২০ ডলারের সমতুল্য।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গাজপ্রমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সি মিলার ১৬ অক্টোবর বলেন, ইউরোপে গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, বাজারের ওপর বিভিন্ন ঝুঁকির প্রভাব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় কম ছিল।
দাম বৃদ্ধির পেছনে ইউরোপের গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর তুলনামূলক কম মজুত একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শীতকালে তাপের চাহিদা বাড়লে সংরক্ষিত গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত সেপ্টেম্বরে সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে এটি তাঁর দেওয়া সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস, নিশ্চিত বাজারদর নয়।
বিশ্লেষকদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউরোপ শীতের আগে কতটা গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহে কতটা প্রভাব ফেলে। এসব পরিস্থিতির অবনতি হলে গ্যাসের উচ্চমূল্য ইউরোপের শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ খরচ ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইতি/
