চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হওয়ার তালিকায় নেই একজনও।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম এলাকার। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
রাঙামাটির বরকল উপজেলার আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়েছে ১০ জন এবং লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুল থেকে অংশ নিয়েছে ১৫ জন। দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
এ ছাড়া সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুলের ১০ জন, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুলের ১৭ জন এবং দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুলের ১৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে, দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে পাঁচজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও দুই প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও শূন্য পাস।
শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করা যথেষ্ট নয়। এর পেছনে শিক্ষক সংকট, নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, ঝরে পড়া, পারিবারিক আর্থিক সংকট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করানো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলেও পাসের হার আগের তুলনায় কমেছে। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল আলাদাভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান ও কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়ে রয়েছে, তা শনাক্ত করা হবে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণও খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রম জোরদার ও তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইতি/
