, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে জনভোগান্তি। গ্যাসের স্বল্পতায় কোথাও রান্না ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। একই সময়ে গ্রাম ও মফস্‌সল এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং এবং কিছু গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, পরিবহন ও আবাসিক গ্রাহক—সব খাতেই চাপ তৈরি হয়। পরে ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও সংকটের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি।

বিদ্যুৎ খাতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে এবং এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে লোডশেডিং বেশি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই আগের মাসের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি বিল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে কর্মসূচিও হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে সংকট সামাল দিতে গিয়ে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো নয়—প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত ব্যবহার অনুযায়ী বিল নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

কারণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এখন আর শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়—এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা, শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতিতে।

সংকট সাময়িকভাবে কাটলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর জবাবদিহি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত