চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসের ঘটনায় শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক জানিয়েছে পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি, স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স।
সংগঠনের সভাপতি ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান, সদস্য (এডমিন) আকতার হোসেন নিজামী এবং সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি, আয়েশা সিদ্দিকা, মুজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কায়সার এক যৌথ বিবৃতিতে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তারা।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সীতাকুণ্ডের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর নজরদারি, নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন।
গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের নেতারা বলেন, শ্রমিকের মৃত্যুকে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। বিশেষ করে জাহাজের ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি, কাজ শুরুর আগে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, গ্যাস পরীক্ষা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।
নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ঘোষিত ক্ষতিপূরণকে পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে অন্তত ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে স্বজন হারানো পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, এসব দাবিতে আগামী ২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। স্মারকলিপিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, দোষীদের যথাযথ শাস্তি, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের অনুমোদন বা লাইসেন্স পর্যালোচনা, অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত। সরকারি শিপ রিসাইক্লিং ডাটাবেজে প্রতিষ্ঠানটির নাম রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার ২০২৬ সালের অনুমোদিত শিপ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটির তালিকাতেও প্রতিষ্ঠানটি অন্তর্ভুক্ত।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বিষাক্ত গ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাবে শ্রমিকদের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে।
ইতি/
