, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

এলপিজি সরবরাহ আটকে রাখার অভিযোগ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমদানি করা এলপিজির চালান আটকে রাখার অভিযোগে দেশের পাঁচটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মজুত ও সরবরাহ কার্যক্রম তদন্তের সুপারিশ করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বরের দিকে বা তার পর থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু আমদানি করা এলপিজি চালান স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ছাড়া হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দুই হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানির পরিমাণ বিবেচনায় দেশে সামগ্রিক এলপিজি সরবরাহে ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বরং আমদানি করা গ্যাসের একটি অংশ বাজারে সরবরাহ না করে মজুত রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে।

এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) সেপ্টেম্বর মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন বলে জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আমদানি পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং তা দেশের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।

এলপিজির আমদানি, মজুত ও বাজারে সরবরাহের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে বিস্তারিত তদন্তের সুপারিশ করেছে এনএসআই। বিশেষ করে অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ের আগে আমদানি করা চালানগুলো পরে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবর থেকে প্রতি টন এলপিজির দাম প্রায় ৬৪ ডলার বেড়েছে। চালান আটকে রাখার অভিযোগের সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সময়ের মিল থাকায় বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

এনএসআইয়ের সুপারিশ অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বড় আমদানিকারকদের এলপিজি মজুতের হিসাব সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি চালান দেশে আসার তারিখ, খালাসের সময়, সংরক্ষিত পণ্যের পরিমাণ এবং বাজারে সরবরাহের তারিখ আলাদাভাবে যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আমদানি করা পণ্যের কতটুকু এখনো মজুত রয়েছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক চাহিদার তুলনায় সেই মজুতের পরিমাণ অস্বাভাবিক কি না, তা পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এলপিজি আমদানি, মজুত ও সরবরাহের তথ্য পর্যবেক্ষণের কথাও বলেছে এনএসআই। তদন্তে কৃত্রিম সংকট তৈরি, পণ্য আটকে রাখা কিংবা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কোনো অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত